Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিকিমে যাওয়াই কাল হল ছেলের, বুক চাপড়ে কেঁদেই চলেছেন অর্জুনের বৃদ্ধা মা

সিকিমে দুর্ঘটনায় নিহত অর্জুন সাঁওতালের মা পার্বতী শোকে ভেঙে পড়েছেন। তিনটি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিস্তারিত পড়ুন।

সিকিমে যাওয়াই কাল হল ছেলের, বুক চাপড়ে কেঁদেই চলেছেন অর্জুনের বৃদ্ধা মা
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: বলেছিলাম সিকিমে যাস না বাবা, অন্য কোথাও যা। ছেলে আমার কথা শুনল না। সিকিমেই গেল। ওখানে না গেলে হয়তো এই কঠিন দিনটির আজ মুখোমুখি হতাম না। মঙ্গলবার বিকেলে চোখের জল মুছতে মুছতে এ কথাই বারবার বললেন নাগরাকাটা ব্লকের সুখানিবস্তির মনমোহন ধুরার বাসিন্দা নিহত অর্জুন সাঁওতালের বৃদ্ধা মা পার্বতী সাঁওতাল। 

Advertisement

সিকিমে টানেল দুর্ঘটনায় মেটেলির ছ’জন ও নাগরাকাটার তিনজন মারা গিয়েছেন। নাগরাকাটার তিনটি পরিবারেরই নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। ওই দুর্ঘটনার খবর নাগরাকাটায় পৌঁছতেই গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই নাগরাকাটার তিন এলাকায় শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। 
নাগরাকাটার অর্জুন সাঁওতালের বাড়ি সুখানিবস্তিতে। ওঁর মা পার্বতী সাঁওতাল বলেন, বাইরের রাজ্যে কাজে যেতে নিষেধ করেছিলাম ছেলেকে। কিন্তু ও কথা শোনেনি। বুক চাপড়ে ছেলের স্মৃতিচারণা করে অঝোরে কাঁদতে থাকেন পাবর্তী। মৃত শ্রমিকের দাদা কিনোয় সাঁওতাল বলেন, সিকিমে থেকে মঙ্গলবার সকালে ফোন আসে ভাইয়ের মৃত্যুর। এভাবে ভাইয়ের মৃত্যু, মেনে নিতে পারছি না। 
নাগরাকাটার বোলো ওরাওঁয়ের বাড়ি সুলকাপাড়া পঞ্চায়েতের সোমাপাড়ায়। সিকিম থেকে ফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাড়িতে স্ত্রী সরস্বতী ওরাওঁ এবং দুই সন্তান রয়েছে। এখন সংসার কীভাবে চলবে, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না সরস্বতী।  
নাগরাকাটার গ্রাসমোড় চা বাগানের ২ নম্বর লাইনের বাসিন্দা আনন্দ টোপ্পো দুই সপ্তাহ আগে শিলিগুড়ির কাজ শেষ করে সিকিমে কাজে যান। তাঁর মা অরুণা টোপ্পো এদিন জানান, বড়ো ছেলে আনন্দ কেরলে কাজ করত। শিলিগুড়িতে সম্প্রতি একটি কাজে যোগ দিয়েছিল। সেই কাজ শেষ করে জুলাই মাসেই সিকিমে যায়। সিকিমে না গেল হয়তো আজ এই পরিণতি ওর হত না। এদিকে, মৃত আনন্দের স্ত্রী আয়না টোপ্পো জানান, রবিবারই ফোনে ওঁর সঙ্গে কথা বলেছি। এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে ভাবতেই পারছি না। সংসার চলবে কীভাবে জানি না। • অর্জুন সাঁওতালের মা। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ