Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নারকেল কোড়ার দিন শেষ? ঘরোয়া হাতের ছোঁয়া বনাম প্যাকেটের মিষ্টি

একসময় শরতের আকাশে সাদা সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভাসলেই বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয়ে যেত দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি

নারকেল কোড়ার দিন শেষ? ঘরোয়া হাতের ছোঁয়া বনাম প্যাকেটের মিষ্টি
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: একসময় শরতের আকাশে সাদা সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভাসলেই বাড়িতে বাড়িতে শুরু হয়ে যেত দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। হেঁসেল থেকে শোনা যেত নারকেল কোরার শব্দ, বেসনের ঝুরি-নিমকি ভাজা গন্ধ আর খৈ-গুড়ের মুড়কি তৈরির ব্যস্ততা। পুজোর অতিথি আপ্যায়ন থেকে বিজয়ার প্রণাম সর্বত্রই ব্যবহার হত বাড়ির তৈরি খাবার। 

Advertisement

সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে সেই ছবি। ঘরের তৈরি খাবারের জায়গা দখল করেছে কেনা খাবার। করিমপুরের আশিঊর্ধ্ব রিতা সান্যালের স্মৃতিতে এখনও স্পষ্ট সেই দিনগুলি। তিনি বলেন, শারদীয়া মানেই ছিল নীল আকাশে মেঘ, মাঠে কাশফুল আর বাতাসে নাড়ু-মুড়কির গন্ধ। দুর্গাপুজোর মাস খানেক আগে থেকেই বাড়ির মহিলারা নারকেল কুড়িয়ে নাড়ু,  নাড়ু এবং খৈ-গুড়ের মুড়কি তৈরি করতেন। অতিথিদের পাতে তুলে দেওয়া হত সেই সব খাবার।  পুজোর দিনগুলিতে বাড়িতে আসা অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হত সেই ঘরোয়া মিষ্টি। আর এক আশিঊর্ধ্ব বৃদ্ধা মিনতি বিশ্বাস বলেন, আগে পুজোর সময় প্রতিটি বাড়িতেই ময়দা, নারকেল, চিনি ও আখের গুড় দিয়ে নানা ধরনের সুস্বাদু উপকবণ তৈরি করা হয়। বাড়ির মহিলারা দিনভর ব্যস্ত থাকত। ভোররাতে ঢেঁকির শব্দে ঘুম ভাঙত। সেই শব্দ আর শোনা যায় না। স্থানীয়দের মতে, একসময় বাড়ির আশপাশে প্রচুর নারকেল গাছ ছিল। সব সহজে পাওয়া যেত। সময়ের সঙ্গে কমেছে নারকেল গাছ, বেড়েছে নারকেল ও আখের গুড়ের দাম। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনেকেরই নাড়ু-মুড়কি তৈরির অভিজ্ঞতা নেই। ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাড়ির সেই আয়োজন।  ভিনরাজ্যে কর্মরত করিমপুরের পীযুষ প্রামাণিকের স্মৃতিতেও এখনও উজ্জ্বল সেই দিনগুলির কথা। তিনি বলেন, প্রায় চল্লিশ বছর আগে কর্মসূত্রে মুম্বই চলে গেলেও শরৎ এলেই গ্রামের পুজোর কথা মনে পড়ে। পুজোর আগে মায়েদের নারকেলের নাড়ু তৈরির দৃশ্য এখনও চোখে ভাসে। দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজো পর্যন্ত অতিথি আপ্যায়নে থাকত নাড়ু-মুড়কি। বিজয়ার রাতে পাড়ার গুরুজনদের বাড়িতে গিয়ে প্রণাম করলেই পাওয়াযেত নানা খাবার। পকেট ভর্তি করে বাড়ি ফিরতাম। এখন সেই ঐতিহ্য অতীত। ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও বাজারনির্ভরতার চাপে মিষ্টিমুখও বদলে গিয়েছে। মেশিনে তৈরি নাড়ু-মুড়কি বাজারে সহজেই মিলছে। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে নারকেলের নাড়ু,  কিংবা গুড়ের মুড়কির স্বাদ ও ঘ্রাণ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ