সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এবার ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্যান্ডেলে শৌচালয় তৈরির আবেদন করা যাবে! সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সমস্ত পুজোমণ্ডপে এই আবেদন সংগ্রহের ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক। এই মর্মে সোমবার পঞ্চায়েত দপ্তর নির্দেশিকা জারি করে জেলায় জেলায় পাঠিয়েছে। আবেদন সংগ্রহের সমস্ত ব্যবস্থা এই পুজো কমিটিগুলিকে করতে হবে। যাদের বাড়িতে এখনো শৌচালয় নেই তারা যাতে পুজো কমিটির কাছে আবেদন করতে পারে সেটা নিয়ে আগাম প্রচার করতে বলা হয়েছে। দপ্তরের এমন বেনজির সিদ্ধান্ত অবাক করেছে অনেককেই। দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে দপ্তর থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে মায়ের আগমন স্বচ্ছতার বন্ধন। এর মাধ্যমে মূলত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য সংগ্রহ ও পৃথকীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রচারমূলক কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে। তারই অঙ্গ হিসাবে মণ্ডপে শৌচাগরের আবেদন সংগ্রহ করার বন্দোবস্ত করতে বলেছে দপ্তর। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি পুজোমণ্ডপে শৌচাগার নেই এমন পরিবারের কাছ থেকে শৌচাগার নির্মাণের জন্য আবেদন সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। যাঁরা মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে আসবেন, তাঁদের এ বিষয়ে জানানো এবং যোগ্য পরিবারগুলিকে আবেদন করতে উৎসাহিত করার জন্য কমিটিকে সক্রিয়ভাবে প্রচার করতে বলেছে দপ্তর।
কেন হঠাৎ এমন পরিকল্পনা? জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যে ৭ লক্ষ শৌচালয় তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দেড় লক্ষের মতো আবেদন এসেছে যার মধ্যে ৭০ হাজারের কিছু বেশি টয়লেট নির্মিত হয়েছে রাজ্যজুড়ে। উৎসবের সময় বহু মানুষের সমাগম হয় মণ্ডপগুলিতে। যাঁরা এতদিন কোনোভাবে এগিয়ে আসেননি তাঁরা মণ্ডপে এসে এই ব্যবস্থা দেখলে হয়তো সেখানে শৌচালয়ের আবেদন করতে পারেন। এই ভাবনা থেকেই দপ্তরের এমন উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। পুজো শেষে প্যান্ডেলে করা আবেদন বিডিওর কাছে পাঠিয়ে দেবেন সংশ্লিষ্ট পুজোর উদ্যোক্তারা। সরকারের এই উদ্যোগে কতটা সাড়া ফেলে মানুষজনের মধ্যে এখন সেটাই দেখার।



