


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্কুলের ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণে অভিযুক্ত শিক্ষক আগাম জামিন পেয়ে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে স্কুলে ঢোকার আর্জি জানালেন ডিআইয়ের কাছে। সেই আর্জি পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায়। তাঁর পক্ষে কোনও শিক্ষককে স্কুলে জয়েনিংয়ের জন্য পুলিশি ব্যবস্থা করা সম্ভব নয় বলে সাফ জানালেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক। এদিকে, ওই শিক্ষককে কোনও অবস্থায় স্কুলে ঢোকানো যাবে না বলে এলাকায় ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে। এনিয়ে সরগরম শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের জামিট্যা আদর্শ হাইস্কুল। গত ২৫অক্টোবর স্কুলেরই এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্তাল হয় জামিট্যা আদর্শ হাইস্কুল। গ্রামবাসীরা স্কুলগেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। যেকারণে সেদিন ক্লাস হয়নি। ছাত্রীর মা এনিয়ে তমলুক থানায় এফআইআর করেন। তার ভিত্তিতে পকসো ধারায় কেস হয়। ১নভেম্বর রাজ্য শিশুসুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস ওই স্কুলে যান। তিনি প্রধান শিক্ষক, বিক্ষোভের অংশ নেওয়া গ্রামবাসী এবং নিগৃহীতা ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় কেস হলেও তমলুক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। বরং ওই শিক্ষক আদালত থেকে আগাম জামিন পান। ঘটনার পর থেকেই তিনি স্কুলে গরহাজির।
সম্প্রতি আগাম জামিন পাওয়ার পর ওই শিক্ষক স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা এনিয়ে ফের আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের দাবি, ওই শিক্ষককে স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বরং তাঁকে বরখাস্ত করা হোক। কারণ, তিনি স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করেছেন। এনিয়ে এলাকায় ফ্লেক্সও পড়েছে। এই অবস্থায় গত ৯ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষক তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে স্কুলে যান। যদিও সেদিন তিনি যোগ দিতে পারেননি। সস্ত্রীক স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপরই ওই শিক্ষক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তমলুক গ্রামীণের স্কুল পরিদর্শক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং আরও কয়েকজন তাঁকে যোগ দিতে দিচ্ছেন না। পাশাপাশি তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক অতীশ পট্টনায়েক বলেন, ৯ফেব্রুয়ারি আমি ছুটিতে ছিলাম। ওই শিক্ষক ১১টা ৭মিনিট নাগাদ স্কুলে আসেন। তাঁকে জয়েন করাননি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। এরপর তিনি আমার সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। ওই শিক্ষককে বরখাস্ত সহ একাধিক দাবিতে ফের এলাকার লোকজন আন্দোলন শুরু করেছেন। তাঁরা ফ্লেক্স সাঁটিয়েছেন।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, ওই শিক্ষক পুলিশি সুরক্ষা নিয়ে স্কুলে ঢুকতে চান বলে আমাদের কাছে এসে আর্জি জানান। এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়েছি। ওই শিক্ষক বলেন, আমি এনিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।