আঙ্কোরভাট মন্দির, ছৌ নাচের মডেল,  উত্তম মণ্ডপসজ্জায় হাজির মহানায়ক
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ষষ্ঠীর বোধন হয়েছে সকালে। আলোর রোশনাইয়ে হুগলির চুঁচুড়া থেকে উত্তরপাড়া নতুন চেহারা ধরে উঠেছে। সেইসঙ্গে শহরের অলি-গলি-রাজপথের ধারে থিমের মনোরম সজ্জা চমক দিতে তাল ঠুকছে। চমকের সেই চকমকি জ্বালানোর জেরে আকর্ষণের দাবানল এখন গঙ্গাপাড়ে। থিমের বিপুল পসরায় কী নেই! উত্তমকুমারের মহানায়কোচিত জীবনকথা থেকে কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দির, মায়াপুর ইসকনের মন্দির বা ছৌ-নৃত্যের সজ্জায় অসুরবধের ধারাবিররণী, মায়ানগরী হয়ে ওঠা হুগলিতে সবই আছে। ইতিমধ্যেই সেসবের শোভা দেখতে পথে নামতে শুরু করেছে বছরভরের তৃষ্ণা নিয়ে জেগে থাকা নাগরিক মহল্লা।

Advertisement

মহানায়ক উত্তরকুমারের এবার জন্মশতবর্ষ। পুজো মরশুমে তাই উত্তম-থিম গড়তে মহানায়কেই বাজি রেখেছে চুঁচুড়ার চাঁপাতলা সর্বজনীন। গোটা মণ্ডপকে নানাভাবে উত্তমময় করে তোলা হয়েছে। কাটআউট থেকে পোস্টারে সেজেছে মণ্ডপ। আছে লক্ষ ছবির কোলাজ। তাতেই উত্তম-চরিত রচনা শেষ হয়নি আয়োজকদের। তাই সাবেক সিনেমার রিলকে যান্ত্রিকভাবে চলমান করে এক বিশেষ আকর্ষণ গড়া হয়েছে। আকর্ষণে আড়ম্বর বাড়াতে দুটি স্ক্রিন ব্যবহার করে বিশেষ শো আয়োজন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শকদের মণ্ডপে বেশখানিকটা দাঁড় করিয়ে রাখার যাবতীয় আয়োজন সারা হয়েছে। হ্যাঁ, উত্তময় মণ্ডপেই থাকবে বাঙালির উমা। পুজো উদ্যোক্তা স্বরূপ দত্ত বলেন, সাবেক এবং আধুনিকের মেলবন্ধনে এক অনবদ্য প্রতিমা নির্মাণ হয়েছে। পাশাপাশি, আলোর খেলা তো থাকবেই।
উত্তরপাড়ার বন্ধুমহল ক্লাবের এবারের আয়োজন মায়াপুরের ইসকন মন্দির। কৃষ্ণ-রাধা উপস্থিতিতে দেবীকে হাজির করিয়ে একটি ভিন্ন স্বাদের পুজো করছেন উদ্যোক্তারা। দেবী এখানে সাবেক গড়নে ডাকের সাজে মণ্ডপে থাকবেন। বাহারি আলোকসজ্জায় ইতিমধ্যেই চমক জাগাতে শুরু করে বন্ধুমহলের পুজো উদ্যোগ। বিরাট আয়তন মায়াপুর মন্দিরের অন্দরসজ্জাও করা হয়েছে নজরকাড়া। পুজো উদ্যোক্তা অনুপ রায় বলেন, আমাদের পুজো জনপ্রিয়। সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চেষ্টার ত্রুটি হয়নি। শ্রীরামপুরের ঠাকুরদাসবাবু লেনের বান্ধব সঙ্ঘের এবারের আয়োজন, ছৌ। থিমের নাম, মাটির গন্ধে ছৌয়ের ছন্দে চিরন্তন মাদুর্গা। দুর্গার অসুরবধকেই ছৌ নামের বৃহত্তম আশ্রয় বলা হয়। সেই ছন্দকেই মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে। আর বাহিরসজ্জায় বাঁশের মণ্ডপকে সাজানো হয়েছে ছৌয়ের নানা সাজ দিয়ে। অসংখ্য ছৌ-নাচের মডেল মণ্ডপে দেখা যাবে। ঠাকুরদালানের আদলে তৈরি মণ্ডপে দেবী থাকবেন সাবেক ধাঁচায়। পুজো উদ্যোক্তা শুভেন্দু ঘোষ বলেন, আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা আর নতুন রকমের মণ্ডপসজ্জা দর্শকদের নজর কাড়বেই।
নজরকাড়তে চেয়েই বিরাট আয়তন মণ্ডপ তৈরি করেছে শ্রীরামপুরের মাহশে জগন্নাথ ঘাট সর্বজনীন। মণ্ডপটি আসলে কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দিরের একটি প্রতিরূপ। আসল মন্দিরের বাহির ও অন্দরসজ্জা আজও বিশ্বব্যাপী দর্শক থেকে বাস্তুকারদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। সেই ধাঁধাকেই ফোম, প্ল্যাস্টার অব প্যারিসে ধরেছেন উদ্যোক্তারা। আর থাকছে মানানসই আলোর সাজ। পঞ্চমী পেরিয়ে ষষ্ঠীতে পা রেখেই চর্চা শুরু হয়েছে ওই আয়োজনকে ঘিরে। পুজো উদ্যোক্তা দিব্যেন্দু বালিয়াল বলেন, আমাদের প্রতিমা সাবেক ঘরানার কিন্তু আকর্ষণীয়। আর মণ্ডপসজ্জা ইতিমধ্যেই চর্চার পালে তুফান তুলেছে।
তুফান উঠেছে হুগলির গঙ্গাতেও। আলোর সাজ আর বহুবর্ণ মণ্ডপের ছায়া গঙ্গার বহমান ধারায় পড়ছে। জলেও তাই আনন্দলহরি। যে সেই লহরির শব্দ ঢেকে দিচ্ছে জনকোলাহল।