রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে ‘স্বতন্ত্র’ অজেয় সংহতি, ৪১ পল্লি দেখাবে ‘দ্বৈত’, কর্পোরেট চেহারায় বদল, পাড়ার পুজোর আমেজ কেন্দুয়া শান্তি সংঘে
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগে মণ্ডপে হামলা। কর্মকর্তাদের মারধর। পুজো শেষপর্যন্ত করা যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। দুষ্কৃতীদের চোখ রাঙানিও ছিল। উদ্দেশ্য ছিল পুজো বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু পুলিশের তৎপরতা ও কর্মকর্তাদের সদিচ্ছায় দুষ্কৃতীদের হুমকি অগ্রাহ্য করে হরিদেবপুরের অজেয় সংহতি পুজোর আয়োজন করছে। কর্মকর্তাদের দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবিই যেন ফুটে উঠেছে পুজোর থিমে। ২০০ বছরের ব্রিটিশ রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াইয়ের পর ভারতবর্ষের স্বতন্ত্র রূপ তুলে ধরা হয়েছে পুজোর মধ্য দিয়ে। তাদের পুজোর থিম, ‘স্বন্তন্ত্র’।

Advertisement

মণ্ডপে ঢুকলে ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ছবি চোখে পড়বে। রয়েছে অভিনবত্ব। শিল্পী সোমনাথ শিল বলেন, ইতিহাস ঘাঁটলে স্বাধীনতার নেপথ্যের বহু যুদ্ধ, বহু নেতা, বহু বিপ্লবীর কথা আমরা জানতে পারি। কিন্তু আমরা জানি না যে, সেই সময়ে শিল্প, কলা, সংস্কৃতি জগতেও বিপ্লবের ঝড় উঠেছিল। বঙ্গভঙ্গের সময় বিদেশি বস্ত্র বর্জন করা হয়েছিল। একই সময়ে আর্ট কলেজে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুরু করেছিলেন জলরঙের ব্যবহার। তার আগে তেল রঙের ব্যবহার হত। একইসঙ্গে বিদেশি চিত্রকলা, স্থাপত্য তৈরি হত বাংলায়। কিন্তু অবনীন্দ্রনাথের হাত ধরে শিল্পজগতে শুরু হয় স্বাধীনতার বিপ্লব। স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি, কলা। শিল্পীর ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইংরেজ সেপাইয়ের আদলে তৈরি হয়েছে অসুর। তাকে বধ করবে দুর্গা। এখানে দুর্গা দেশমাতৃকা। প্রতিমা ও থিমসজ্জা দর্শনার্থীদের ভিড় টানবে বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন অজেয় সংহতির উদ্যোক্তারা।
চ্যালেঞ্জ দিতে তৈরি হরিদেবপুর ৪১ পল্লিও। ৬৯তম বর্ষে এবার তাদের উপস্থাপনা ‘দ্বৈত’। একইঅঙ্গে দুই সত্তা। এই ভাবনাকে সঙ্গে নিয়ে সমাজের কিছু বন্ধ দরজা খোলার চেষ্টা করেছেন শিল্প গৌরাঙ্গ কুইল্যা। মূলত বৃহন্নলাদের কুর্নিশ জানিয়ে এই ভাবনা তুলে ধরেছেন শিল্পী। তিনি বলেন,  ‘নারী পুরুষের দ্বৈত সত্তা রয়েছে এমন কিছু বিশিষ্টদের তুলে ধরা হবে পুজোর ক্যানভাসে, যাঁরা আমাদের সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে নির্দিষ্টভাবে কেউ নন, দ্বৈতসত্তা নিয়ে যারা জন্মেছেন তাঁদের সমাজের পিছনের দিকে সরিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা থাকে আমাদের। সেই প্রবণতাকেই ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’ মোটিভ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। নাট, বল্টু, ছুরি, কাচি ইত্যাদি যন্ত্রের ব্যবহারিক প্রয়োগ বিভিন্ন। তাই জন্যই তাদের এত গুরুত্ব। সেভাবেই দ্বৈত সত্তার মানুষ হয়ে ওঠে অদ্বৈত।
অন্যদিকে পাটুলির একদা শো স্টপার কেন্দুয়া শান্তি সংঘের পুজো একটু অন্যরকম। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত কর্পোরেট ধাঁচে পুজো করতেন। এবার কেন্দুয়ার পুজো আয়োজনে পাড়ার সদস্যদেরই আধিক্য। তাঁরা বলেন ‘কেন্দুয়াতে এবার পাড়ার পুজোর আমেজ মিলবে।’ তাঁদের ভাবনা ‘ঐশ্বরী‘। শিল্পী অভীক সেন বলেন, ‘নারী ঈশ্বরের সৃষ্টি। সেই নারী রূপকেই আমরা দুর্গা রূপে পুজো করি। ঐশ্বরিক নারীর বর্তমান পরিস্থিতিকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’