জেন জি আন্দোলনের চাপে ব্যাকফুটে, এবার বিজেপির নিশানায় নেহা বোরাও
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সম্মিলিতভাবে বিরোধী দল তথা ইন্ডিয়া জোট নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।  জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চাইছে, প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করছে। কিন্তু বিজেপি এতদিন পর্যন্ত বারংবার প্রধানত নিশানা করেছে রাহুল গান্ধীকেই। নিয়ম করে প্রত্যেক বিজেপি মুখপাত্র, মন্ত্রী, এমপি বারংবার বলেছেন, রাহুল তথা কংগ্রেস নেতৃত্ব হতাশ হয়ে এভাবে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছেন। কারণ ভোটে একের পর এক রাজ্যে রাহুল গান্ধীর দল প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। তাই সোজাপথে ভোটে জয়ী হতে না পারার রাগ রাহুল কমিশনকে আক্রমণ করে মেটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার হঠাৎ দেখা গেল এতদিন শুধুই রাহুল কেন্দ্রিক আক্রমণ হলেও বিজেপি এবার তাঁর সঙ্গেই ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে নিশানায় এনেছে। একইসঙ্গে নেহা-রাহুল শব্দবন্ধ উচ্চারণ করে এদিন বিজেপি দু’জনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। 

Advertisement

বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি  বলেছেন, রাহুল গান্ধীর চক্রান্তকেই বাস্তবে রূপ দেওয়ার কথা বলে চলেছেন নেহা। একটিই ভিডিও বার্তা দেখিয়ে বিজেপি বলেছে, নেহা বোরা প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের ছাত্র সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ধাঁচেই ভারতে আন্দোলন হবে। তিনি নাকি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন থেকেই।  যদি রাহুল গান্ধী এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত না হন, তাহলে নিন্দা করে বলুন যে তিনি নেহার এই মন্তব্য সমর্থন করেন না। রাহুল প্রতিবাদ না করলে প্রমাণ হবে যে, নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলন আসলে একটি মুখোশ। প্রকৃতপক্ষে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য সরকারকে অগণতান্ত্রিকভাবে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা। সেজন্য সবার আগে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চান নেহা-রাহুল। রাহুল কিছুদিন আগে নিজেই প্রকাশ্যে বলেছেন যে, তাঁদের আসল উল্লেখ্য এই সরকার বদল। কিন্তু যেটা বলেননি সেটি হল কোন পথে? ভোট হবে ২০২৯ সালে। অথচ রাহুল বারংবার বলছেন, এই সরকারের পতন হবে শীঘ্র। প্রদীপ ভান্ডারি বলেছেন, আমি দেশের যুবশক্তি ও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আবেদন করছি নেহা বোরার এই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করুন। তাঁর কথায়, দিল্লিতে সমাবেশের নামে ১০ হাজার মানুষের জমায়েত করা কিন্তু ভারতের চিত্র নয়। দিল্লির ভিড় মানেই ভারত নয়। ভারতের গ্রাম নগর ব্লক সকলেই মোদিজির সঙ্গে রয়েছে। একবার দিল্লি থেকে গ্রামেগঞ্জে যান নেহা-রাহুল। টের পাওয়া যাবে ভারত কী ভাবছে। 
এদিকে প্রশ্ন উঠছে যে, হঠাৎ রাহুলকে ছেড়ে নেহা বোরাকে নিয়ে কেন বিজেপির এত মাথাব্যথা? ক্ষুদ্র দলের ছাত্র সংগঠনের তিনি সভানেত্রী। তাঁকে বিজেপি এত গুরুত্ব দিচ্ছে কেন? রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সাম্প্রতিককালে বিজেপি বিরোধী একের পর এক যুব নেতানেত্রী উঠে এসেছেন। ককরোচ জনতা পার্টি হোক অথবা ছাত্র সংগঠন। কিন্তু তাঁদের মোকাবিলায় বিজেপির কাছে জনপ্রিয় জেনজি মুখ নেই। সেই ঘুরেফিরে নরেন্দ্র মোদির কথা বলতে হচ্ছে। অতএব বিজেপি জেনজির কাছে পৌঁছতে পারছে না। এই আতঙ্ক গ্রাস করেছে দলকে। আর তাই এই অকস্মাৎ আক্রমণ যুব নেতানেত্রীদের।