


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’-কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে ঘোষণা করেছিলেন কৌরবরা। ছাব্বিশের ভোট-যুদ্ধেও খড়্গপুর সদর বিধানসভার যুযুধান দুই প্রার্থী ঠিক একই সুরে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন পরস্পরের দিকে। তবে, সেই যুদ্ধের আবহেও এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক-সৌজন্যের সাক্ষী হয়ে থাকল ‘মিনি ইন্ডিয়া’ খড়্গপুর। কর্মীদের ‘জয় শ্রীরাম’ আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মাঝেই বিজেপির দিলীপ ঘোষ এবং তৃণমূলের প্রদীপ সরকার হাসিমুখে পরস্পরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন। করেন করমর্দন। একে অপরকে শুভেচ্ছাও জানান। বুধবার রাতে খড়্গপুর শহরের কৌশল্যার শ্মশান কালীপুজোর মেলায় দু’জনেই উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানেই পারস্পরিক শুভেচ্ছা-বিনিময় হয় দু’জনের মধ্যে। সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দুই প্রার্থীর সৌজন্য-বিনিময়ে খুশি খড়্গপুরবাসীও।
প্রতি বছরের মতো এবারও শ্মশান কালীপুজোর মেলায় উপচে পড়া ভিড়। বুধবার রাতে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয় বলে জানা গিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন সূত্রে। আর সেই ভিড়কেই প্রচারের বড় মঞ্চ হিসাবে বেছে নেন যুযুধান দুই প্রার্থী দিলীপ ঘোষ ও প্রদীপ সরকার। এদিন রাতে প্রথমে মেলায় পৌঁছন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপবাবু। মন্দিরে পুজো দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণ ছেড়ে একটু এগোতেই মুখোমুখি হয়ে যান বিজেপি প্রার্থী দিলীপবাবুর সঙ্গে। বিজেপির কর্মীরা তখন ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছিলেন মন্দিরের দিকে। পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মীরাও। দু’পক্ষই অবশ্য মাঝেমধ্যেই ‘জয় মা কালী’ স্লোগানও তুলছিলেন। আর এই উত্তপ্ত স্লোগান-যুদ্ধের মাঝেই দিলীপবাবুকে দেখে থমকে দাঁড়ান প্রদীপবাবু। আর ঠিক তখনই প্রদীপবাবুর দিকে হাত বাড়িয়ে দেন দিলীপবাবু। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই সৌজন্য বিনিময়ের মাঝেই একে অপরকে ভোটযুদ্ধের শুভেচ্ছাও জানান তাঁরা। তারপরই হাসিমুখে যে যাঁর গন্তব্যের দিকে রওনা দেন। কর্মীরা অবশ্য তখনও স্লোগান, পাল্টা স্লোগান চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই সৌজন্য-বিনময় প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, ‘প্রদীপের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আমরা একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গিয়েছি। আমি যখন বিধায়ক ছিলাম ও (প্রদীপ) খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ছিল। এক শহরে থাকি, প্রায়ই দেখা হয়। কথাও হয়। ভোটে কে জিতবে, সেটা তো মানুষ ঠিক করবে। তা বলে কি ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বন্ধুত্ব থাকবে না!’
প্রদীপবাবু বলেন, ‘এই রাজনৈতিক সৌজন্য খড়্গপুরে সবদিনই আছে। রাজনৈতিক লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য থাকবে।’ সেইসঙ্গেই প্রদীপের কটাক্ষ, কালীমন্দিরে এসেও ওরা (বিজেপি) যেভাবে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়েছে, স্বয়ং রামচন্দ্র আজ জীবিত থাকলে লজ্জা পেতেন। পাল্টা দিলীপের কটাক্ষ, রাম তো সর্বত্র আছেন, থাকবেনও। আসলে ওরা রামের নাম শুনলেই ভয় পায়। সবমিলিয়ে, ব্যক্তিগত সৌজন্যের মাঝেও রাজনৈতিক উত্তাপ স্পষ্ট। যদিও, খড়্গপুর শহরবাসী অবশ্য প্রতিপক্ষ দুই প্রার্থীর সৌজন্য বিনিময়ে খুশি। জয়দীপ মাইতি, দীপান্বিতা ঘোষ প্রমুখ বলেন, মতাদর্শগত লড়াই থাকলেও পারস্পরিক এই সৌজন্য যেন সবসময়ই বজায় থাকে।-নিজস্ব চিত্র