সংবাদদাতা, কান্দি: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে মাটির বাড়ি পাকা হয়েছে। তাই আগের মতন মাটির দেওয়ালে আর দেখা যাচ্ছে না দরজার পাশে রঙিন কলকা ও আলপনা। অথচ কান্দি এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে পুজোর আগেই মহালয়ার দিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাটির দেওয়ালে কলকা আঁকা ও আলপনা দেওয়ার কাজ শুরু হত। কিন্তু এবার মহালয়ার দিনে কার্যত দেখা গেল না বাড়ির দেওয়ালে আলপনা দিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমার কান্দি, বড়ঞা ও খড়গ্রাম ব্লক এলাকায় অন্তত ২৪ থেকে ২৭টি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে খড়গ্রাম ব্লকে রয়েছে প্রায় ১৪টি গ্রাম। বড়ঞা ব্লকের আন্দি লালচাঁদ ছাঁজের উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাসের শিক্ষক জীতেন্দ্রনাথ ঘোষের কথায়, আদিবাসী গ্রামগুলিতে মহালয়ার দিন থেকে মাটির ঘরের দরজার পাশে রঙিন কলকা আঁকার চল রয়েছে। এছাড়াও বাড়ির সদর দরজার পাশের দেওয়ালেও আলপনা দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। কয়েকদশক আগে ভেষজ রং ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে বাজার থেকে কেনা কম দামী রং ব্যবহৃত হত। সাধারণত পারিবারিক স্বচ্ছলতা বোঝানোর জন্য পুজোর আগে মহালয়ার দিন থেকে কলকা আঁকার কাজ শুরু হতো। চলত দুই তিনদিন ধরে।
তবে এখন এই রীতি কার্যত উঠে যাওয়ার মুখে। বড়ঞা ব্লকের বড়কাপসা গ্রামের কল্পনা সর্দার বলেন, গ্রামে আর মাটির বাড়ি কই? পাকা বাড়িতে তো আর কলকা দেখতে ভালো লাগে না। তাই এখন আর কেউ ওসব করে না। এই গ্রামেরই সরস্বতী সর্দার বলেন, বিয়ের পর আমরাও অনেক বছর ধরে মহালয়ার দিন দেওয়ালে কলকা দিয়েছি। কিন্তু আটবছর আগে যেদিন থেকে সরকারি পাকা বাড়ি হয়েছে, সেদিন থেকে এসব বন্ধ।
কান্দি ব্লকের উগ্রভাটপাড়া এলাকায় কয়েক হাজার আদিবাসী পরিবারের বাস। কয়েকবছর আগে অধিকাংশ পরিবারের মাটির বাড়ি ছিল। তবে সম্প্রতি মাটির বাড়ি রয়েছে হাতে গোনা। কান্দি ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, সরকারি আবাস প্রকল্পে ওই এলাকায় প্রচুর পাকা বাড়ি হয়েছে। এখনো অনেক বাড়ি নির্মীয়মাণ অবস্থায় রয়েছে। এর সঠিক পরিসংখ্যান পেতে হলে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। আসলে পাকাবাড়ি হওয়ায় নিরাপত্তাও বেড়েছে।



