সুকান্ত বসু, কলকাতা: মাটি, শোলা ও বাঁশের পাশাপাশি এবার পিতলের দুর্গা প্রতিমার চাহিদাও বেশ ভালো। কলকাতার নতুন বাজারে রয়েছে একাধিক পিতল-কাঁসার দোকান। গত দুমাসে সেখানে বিভিন্ন পিতলের বিগ্রহ বিক্রির পাশাপাশি চাহিদা ছিল দেবী দুর্গারও। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, শুধুমাত্র কলকাতা নয়, আশপাশের জেলা থেকেও বিভিন্ন মানুষজন পিতলের দুর্গা কিনে নিয়ে গিয়েছেন। কেউ কেউ আবার সেই দুর্গা কেনার পর তা রং করার জন্য শিল্পীদের কাছে দিয়ে গিয়েছেন। কেউ আবার সরাসরি কিনে নিয়ে গিয়েছেন সেই পিতলের দুর্গা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পিতলের দুর্গার কোনোটার ওজন ১৫ কেজি, কোনোটার ১০ কেজি, পাঁচ কেজির কোনোটা। কিছু প্রতিমার ওজন তারও বেশি। পিতলের দুর্গামূর্তিগুলি সত্যিই বিচিত্র—কোনোটা সিংহবাহিনী, কোনোটা মহিষাসুরমর্দিনী। আবার কোনোটা সাবেকি একচালার দুর্গা প্রতিমার স্টাইলে। প্রতিটি পিতলের দুর্গা প্রতিমাই দেখতে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। এই সমস্ত পিতলের দুর্গামূর্তির যত বেশি কারুকার্য, ততই দামি।
রবীন্দ্র সরণির বাসিন্দা অভয় ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে পিতলের নানা দেব‑দেবীর মূর্তি রং করে থাকেন। তিনি বলেন, ‘যখন যেমন বরাত পেয়ে থাকি, সেইমতোই কাজ করি। কখনো কখনো শহরের বিভিন্ন প্রাচীন বাড়িতে গিয়ে পিতলের বিগ্রহের রঙের কাজ করে থাকি। সেই তালিকায় থাকে রাধা‑কৃষ্ণ, কালী, গোপাল প্রভৃতি। গতবছরও কলকাতায় দুটি পিতলের দুর্গা প্রতিমার রঙের (অঙ্গরাগ) কাজ করেছি। এবার দুর্গা প্রতিমা একটি। কালী প্রতিমা চারটি। বিজয় দশমী মিটলেই পিতলের কালীর রঙের কাজ শুরু করব।’
নতুন বাজারে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম থেকে আসা সজল চক্রবর্তীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে, বাড়ির লোকজন কমে আসছে। গতবছরও বাড়িতে একচালার দুর্গা প্রতিমায় পুজো হয়েছিল। এবছর থেকে বাড়িতে পিতলের দুর্গা প্রতিমায় পুজো হবে। আর সেই কারণেই নতুন বাজারে এসেছি পিতলের দুর্গা প্রতিমা কিনতে। পাকাপাকিভাবে সেই মূর্তি বাড়ির মন্দিরে থাকবে। নিত্যপুজোও হবে। প্রতিবছর শুধুমাত্র সেই পিতলের মূর্তিকে রং করা হবে।’
বেলেঘাটা মেইন রোডের বাসিন্দা সুমনা কর্মকার বলেন, ‘নতুন বাজারের কাছে পাথুরিয়াঘাটা রোডে এক শিল্পীর কাছে পিতলের দুর্গার রং করাতে দিয়েছিলাম। কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই নিয়ে গেলাম। আমাদের বাড়ির প্রতিষ্ঠিত পিতলের দুর্গার ওজন ছয় কেজির মতো। আমাদের বাড়ির পুজো হয়ে থাকে খুব জাঁকজমকসহকারে—এই পিতলের দুর্গামূর্তিতে। সব মিলিয়ে মাটি, শোলার দেবীমূর্তি ছাড়াও এবার পিতলের দুর্গামূর্তির চাহিদা ভালো থাকায় খুশি ব্যবসায়ীরাও।



