Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুর পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সর্বদল বৈঠক, বাজল পুরভোটের দামামা

দুর্গাপুর পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সর্বদল বৈঠক হয় শনিবার। দুর্গাপুর এসডিও অফিসের কনফারেন্স হলে মহকুমাশাসক অঙ্কিতা অগরওয়ালের নেতৃত্বে এই বৈঠকে ছিলেন সব স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

দুর্গাপুর পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সর্বদল বৈঠক, বাজল পুরভোটের দামামা
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে সর্বদল বৈঠক হয় শনিবার। দুর্গাপুর এসডিও অফিসের কনফারেন্স হলে মহকুমাশাসক অঙ্কিতা অগরওয়ালের নেতৃত্বে এই বৈঠকে ছিলেন সব স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচনি সেলের সব শীর্ষ কর্তারাই। পুরসভার  ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৩ থেকে বেড়ে ৫৩ করার প্রস্তাব প্রশাসনিক ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এদিন সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কাছে বিস্তারিত তথ্য  তুলে ধরা হয়। কোন ১০টি ওয়ার্ড ভাঙা হয়েছে, কী হিসাবে ভাঙা হয়েছে সেগুলি সবই উঠে এসেছে আলোচনায়। এই বৈঠকেই জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ টেনে অভিনব প্রতিবাদ জানান কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। তাঁরা গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে বৈঠকে অংশ নেন। প্ল্যাকার্ডের মূল দাবি, এসআইআরের নামে অবৈধ ভাবে বাদ দেওয়া মানুষের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে হবে। স্বচ্ছ ভোটার তালিকার দাবিতেও সবর হয় সিপিএম। যদিও বিরোধীদের গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি প্রতিনিধিরা।

Advertisement

অন্যদিকে জানা গিয়েছে, ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস চূড়ান্ত করার পাশাপাশি আসন্ন বছরের শুরুতেই পুরভোট ধরে নিয়ে তার প্রস্তুতিও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে। কোথায় ডিসিআরসি হবে। সেই সময়ে কলেজে বা স্কুলে কোনো পরীক্ষা রয়েছে কি না তারও খোঁজ খবর শুরু করেছেন প্রশাসনিক কর্তারা। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে এই নতুন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়াকে চূড়ান্ত করার উপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিকে জানানো হয়েছে, এই খসড়া ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে কোনো আপত্তি বা পরামর্শ থাকলে তাঁরা আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে ই মেইলের মাধ্য‌঩মে বা সরাসরি লিখিত ভাবেও জানাতে পারেন। সেগুলি নিয়ে শুনানি করে চূড়ান্ত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের তালিকা প্রকাশিত হবে। 
এদিনের বৈঠকে দেওয়া প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুর পুরসভার ১, ৪, ১৪, ২২, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩৫ ও ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড ভেঙে দু’টি করে ওয়ার্ড হচ্ছে। সিপিএমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় কী হিসাবে ওয়ার্ডগুলি ভাঙা হয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, যে সব ওয়ার্ড ১২ হাজারের বেশি ভোটার হয়ে গিয়েছে এবং যেসব ওয়ার্ডের এরিয়া ১০ বর্গকিলোমিটারের বেশি সেই সব ওয়ার্ডকে ভাঙা হয়েছে। বিরোধীরা তালিকায় একাধিক অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেন। এদিনের বৈঠকে ছিলেন দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম ও সচিব অভিজিৎ সামন্ত। 
কংগ্রেসের তরফে প্রাক্তন জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, জ্ঞানেশ কাণ্ড থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এসআইআরের নামে অবৈধ ভাবে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা দাবি জানিয়েছি, তাঁদের ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম তুলতে হবে। তাই আমরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। 
সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া নিয়ে আমাদের কাছে এতদিন তথ্য ছিল না। এদিন প্রশাসন নিজের মতো করে আমাদের প্রশ্নের ব্যাখা দিয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি ভোটারের ভোটাধিকার যেন নিশ্চিত হয়।  এদিকে, মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা এদিন বিস্তারিত তথ্য পেয়েছি। সেসব পর্যালোচনা করা হবে। 
বিজেপি মুখপাত সুমন্ত মণ্ডল বলেন, কংগ্রেসের কোন অস্তিত্ব নেই দুর্গাপুরে। সংবাদ মাধ্যমে টিকে থাকার জন্য প্ল্যাকার্ড নিয়ে নাটক করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ