Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বিকট শব্দ শুনেই অকুস্থলে পৌঁছন অ্যাম্বুলেন্স চালক সতিন্দর সিং সান্ধু

১২ জুন। সময় তখন দুপুর ১টা ৩৯। বিল জে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হস্টেলে মধ্যাহ্নভোজন করছিলেন অ্যাম্বুলেন্স চালক সতিন্দর সিং সান্ধু। তখনই তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা।

বিকট শব্দ শুনেই অকুস্থলে পৌঁছন অ্যাম্বুলেন্স চালক সতিন্দর সিং সান্ধু
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

আমেদাবাদ: ১২ জুন। সময় তখন দুপুর ১টা ৩৯। বিল জে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হস্টেলে মধ্যাহ্নভোজন করছিলেন অ্যাম্বুলেন্স চালক সতিন্দর সিং সান্ধু। তখনই তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই সতিন্দর দেখেন, অন্য একটি হস্টেল বিল্ডিং থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে।  সেই ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে আকাশ। সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান সতিন্দর। যাওয়ার পথেই ফোন করেন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সংস্থার সার্ভিস ম্যানেজার জিতেন্দ্র শাহিকে। বলেন, ‘সম্ভবত বিমান ভেঙে পড়েছে। দমকল বাহিনীকে খবর দিতে হবে।’ আমেদাবাদ বিমান বিপর্যয়ের পর এভাবেই শুরু হয়েছিল প্রাথমিক উদ্ধারকাজ। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার টেক অফের পরেই হস্টেলে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী এআই ১৭১। এরপরই দুপুর ১টা ৪৩ নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান দুর্ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সতিন্দর। সেখানে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ থেকে হস্টেলের এক নিরাপত্তারক্ষীকে দগ্ধ অবস্থায় বেরিয়ে আসতে দেখেন তিনি। বিমানের ২৪২ জনের মধ্যে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন বিশ্বাসকুমার রমেশ। তাঁকেও বেরিয়ে আসতে দেখেন ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক। সতিন্দর জানান, বাইরে আসার পর ফের পরিবারের সদস্যদের খোঁজে ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন রমেশ। সতিন্দর তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান । ১টা ৪৬ নাগাদ দুর্ঘটনাস্থলে পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে যায়। পরের ১০ মিনিটের মধ্যে আরও ২০টি অ্যাম্বুলেন্স চলে আসে। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। জিতেন্দ্র বলেন,  ‘প্রথমেই হস্টেলে থাকা ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হয়।’ রমেশের বেঁচে ফেরার ঘটনা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। বলেন, ‘অতীতে একাধিকবার দুর্ঘটনায় সফলভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়েছি। তবে এবার পরিস্থিতি দেখে রীতিমতো ভয় পেয়ে যাই। চারিদিকে শুধুই লাশের সারি। অপারেশন সিন্দুরের সময় করা মক ড্রিল আমাদের এই পরিস্থিতির জন্য তৈরি করেছে।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ