Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর হাওড়ায় দুষ্কৃতী দমনে বড় সাফল্য, গ্রেপ্তার তিন কিংপিন

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর উত্তর হাওড়ায় দুষ্কৃতী দমনে বড়সড় অভিযান চালালেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর হাওড়ায় দুষ্কৃতী দমনে বড় সাফল্য, গ্রেপ্তার তিন কিংপিন
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর উত্তর হাওড়ায় দুষ্কৃতী দমনে বড়সড় অভিযান চালালেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে চালানো অভিযানে ধর্মতলা রোড এলাকা থেকে কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশ সিংকে পাকড়াও করা হয়। একইসঙ্গে ধরা পড়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুরজ সিং ওরফে বান্টি। এছাড়াও বালির নিশ্চিন্দা এলাকা থেকে রমেশ মাহাত নামে আরও এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আকাশ ও সুরজের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রাখার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রমেশ মাহাতর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল পুলিশের কাছে। তার ভিত্তিতেই এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের এদিন হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর হাওড়ার অপরাধ জগতের অন্যতম পরিচিত নাম আকাশ সিং। খুন, বোমাবাজি, দখলদারি, বেআইনি অস্ত্র মজুত থেকে শুরু করে একাধিক অপরাধমূলক ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছে বারবার। অভিযোগ, উত্তর হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের ছত্রছায়ায় থেকেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিল আকাশ। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এতদিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় উত্তর হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় বোমাবাজির ঘটনায় আকাশ সিংয়ের গ্যাংয়ের নাম উঠে আসে। কয়েক বছর আগে বামনগাছিতে পুলিশের উপর গুলি চালানোর ঘটনাতেও এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে দুই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চলে। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয় স্থানীয় প্রোমোটার মহম্মদ শফিকের। পুলিশ মনে করছে, ওই খুনের ঘটনার পিছনেও আকাশ সিংয়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।
পুলিশের একাংশের দাবি, গোলাবাড়ি থানার এক পুলিশ আধিকারিক এবং উত্তর হাওড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের লাগাতার চাপের কারণেই এতদিন আকাশকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক পালাবদলের পরই পরিস্থিতি বদলায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে উত্তর হাওড়াকে দুষ্কৃতী মুক্ত করার অভিযানে নেমে প্রথমেই আকাশকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এদিকে উত্তর হাওড়ার বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাই বলেন, সন্ত্রাসের দিন শেষ। উত্তর হাওড়ার মানুষ দুষ্কৃতীদের দাপট থেকে মুক্তি পেতেই তৃণমূলকে সরিয়েছে। এবার আকাশের গোটা গ্যাংটাকেই জেলে 
ঢোকানো হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ