জঙ্গল সাফারির পর লাটাগুড়ির ‘পেল্লাই’ চমচম! ডুয়ার্সে পর্যটকদের নয়া আকর্ষণ
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ডুয়ার্সের সবুজ ঘেরা গোরুমারা জাতীয় উদ্যানে সাফারির রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, আর তা শেষ হতেই পর্যটকদের গন্তব্য সোজা লাটাগুড়ির ঐতিহ্যবাহী মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারে। উদ্দেশ্য একটাই— ডুয়ার্সের বুকে রাজকীয় ‘পেল্লাই’ চমচমের সুস্বাদু স্বাদ উপভোগ করা। 

Advertisement

প্রথাগত মিষ্টির চেনা আকারকে বহুদূরে ফেলে ৩০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ১ কেজি ওজনের এই চমচম এখন ডুয়ার্সে আসা দেশ-বিদেশের ভোজনরসিক পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

বিশাল আকৃতির হওয়ার কারণে পর্যটকদের একাংশ ভালোবেসে এর নাম দিয়েছেন ‘ফ্যামিলি প্যাক’। এই মিষ্টির দাম ও ওজনের সমীকরণও বেশ নজরকাড়া। ৩০০ গ্রামের এক পিসের দাম ১০০ টাকা, আবার ৬০০ গ্রাম ও ৮০০ গ্রামের চমচমের দাম যথাক্রমে ২০০ এবং ৩০০ টাকা। 

ডুয়ার্স অঞ্চলে শীতের মরশুমে এই বিশেষ চমচম অন্তত ৭ দিন পর্যন্ত একদম তাজা ও ভালো থাকে। ফলে কলকাতা, দিল্লি বা ভিনরাজ্যের পর্যটকরা অনায়াসেই তা সফরসঙ্গী করে নিজের বাড়ি নিয়ে যেতে পারছেন। এমনকি পর্যটকদের হাত ধরে লাটাগুড়ির এই বিশেষ মিষ্টির জনপ্রিয়তা ইতিমধ্যে সীমানা ছাড়িয়ে ওপার বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশেও পৌঁছে গিয়েছে। 

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলা বললেই ভোজনরসিকদের মনে প্রথম ভেসে ওঠে রাজগঞ্জ ব্লকের ‘বেলাকোবার চমচম’। গত শতাব্দীর চল্লিশের দশক থেকেই খাঁটি ছানা ও গাঢ় খোয়া ক্ষীরের সমন্বয়ে তৈরি বেলাকোবার চমচম গোটা রাজ্যজুড়ে ব্যপক সুনাম কুড়িয়েছে। তবে লাটাগুড়ির এই সুবিশাল চমচম তৈরির পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক রোমাঞ্চকর কারিগরি চ্যালেঞ্জের ইতিহাস। 

মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারের কর্ণধার বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ২০০৩ সালে এক ভিনরাজ্যের পর্যটক লাটাগুড়িতে এসে বেলাকোবার চমচমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দাবি করেন, বেলাকোবার চেয়ে বড়ো এবং সুস্বাদু চমচম কিছুতেই লাটাগুড়িতে তৈরি করা সম্ভব নয়। সেই ঐতিহ্য ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ সানন্দে গ্রহণ করেই মিষ্টির আকার ও রেসিপিতে নতুন রূপ দেন বিশ্বজিৎবাবু। সাধারণ ছানার পাশাপাশি এতে যুক্ত করা হয় উৎকৃষ্ট মানের কাজু, কিশমিশ ও খাঁটি ক্ষীর। ওজনের পাশাপাশি এর অতুলনীয় স্বাদও জয় করে নেয় ভোজনরসিকদের মন। 

বিগত ২৩ বছর ধরে একটানা এই বিশেষ ফ্যামিলি প্যাক চমচম বানিয়ে আসছে এই মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারটি। বিশ্বজিৎ ঘোষের কথায়, দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা লাটাগুড়িতে পা রাখলেই এই মিষ্টির খোঁজ করেন। উৎসবের মরশুমে তো বটেই, এমনকি স্থানীয় রিসর্ট ও হোটেলগুলি থেকেও পর্যটকদের আপ্যায়নের জন্য আগাম মিষ্টির বিপুল বরাত দেওয়া থাকে। চলতি পর্যটন মরশুমে ডুয়ার্সের রিসর্ট ও হোটেলগুলিতে আগাম বুকিং তুঙ্গে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক পর্যটককে ফেরাতে বাধ্য হয়েছেন হোটেল মালিকরা। স্বভাবতই এলাকায় পর্যটকদের আসা-যাওয়া বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিশাল চমচমের চাহিদাও রেকর্ড গড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।