Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দৃষ্টি না থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৪০ পাওয়া আফ্রিদার স্বপ্ন প্রশাসক হওয়া

বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় চমকে দেওয়ার মতো ফল করলেন ইংলিশবাজারের শোভানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী আফ্রিদা ইয়াসমিন।

দৃষ্টি না থাকলেও উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৪০ পাওয়া আফ্রিদার স্বপ্ন প্রশাসক হওয়া
  • ১৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও স্বপ্ন আর মনের জোর প্রবল। এই দুইয়ের উপর ভর করে এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় চমকে দেওয়ার মতো ফল করলেন ইংলিশবাজারের শোভানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী আফ্রিদা ইয়াসমিন। মনের জোর আর মেধা সম্বল করে ৪৪০ নম্বর পেয়েছেন তিনি। কিন্তু এখানেই থামতে চান না। ইউপিএসসির মতো পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে দক্ষ প্রশাসক হতে চান আফ্রিদা।

Advertisement

পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক মহম্মদ পিয়ার আলি এবং গৃহবধূ আঞ্জুমা খাতুনের মেয়ে আফ্রিদার দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত ক্ষীণ ছিল শৈশব থেকেই। ক্রমশ দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পুরাতন মালদহের একটি ব্লাইন্ড স্কুলে পড়াশোনা করা আফ্রিদা পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন শোভানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। আর পাঁচজন স্বাভাবিক পড়ুয়ার সঙ্গেই নিয়মিত ক্লাস করতে শুরু করেন। লেখাপড়ার প্রতি নিষ্ঠা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে তাঁর লড়াইয়ের দৃঢ়তা দেখে শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে সহপাঠীরা যেন আফ্রিদার মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন ‘হেলেন কেলার’কে। যিনি দৃষ্টিহীন ও বধির হয়েও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য কাজ করে বিখ্যাত হয়েছেন। বাবা এবং দু’জন গৃহশিক্ষকের সাহায্য নিয়ে তাঁদের বই পড়া শুনে মনে রাখতে থাকেন আফ্রিদা। তাতেই বাজিমাত। বাংলায় ৯০, ইংরাজিতে ৯১, শিক্ষা বিজ্ঞানে ৭৮, ইতিহাসে ৯৫ এবং দর্শনে ৮৬ পেয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রাপ্তি ৭৭। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়েই স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আফ্রিদার। মনের জোর থাকলেও তাঁর পক্ষে  একা কলকাতায় থেকে ভালো কলেজে লেখাপড়া করা সম্ভব নয়। এই বাস্তব জানেন আফ্রিদা। তাই বলেন, মালদহ কলেজেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আগামীতে ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে আইএএস হতে চাই।বাবা বলেন, মেয়ের জন্য গর্বিত। আগেও একটি প্রখ্যাত বেসরকারি সংস্থা আফ্রিদাকে পুরস্কৃত করেছে মেধার জন্য। বাবা হিসাবে ওকে সবরকম সাহায্য করব। শোভানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হরিস্বামী দাস বলেন, আফ্রিদা আমাদের স্কুলের গর্ব। সে প্রমাণ করেছে মনের জোর আর মেধা থাকলে পৃথিবীতে কিছুই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ