রাঁচি: স্বামীর মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৪৫ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন মহিলা। সেই টাকা হাতাতেই তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করল দত্তক নাবালিকা কন্যা ও তার প্রেমিক। ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচির এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত নাবালিকাকে (১৭) আটক করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রেমিক আরবাজ (২০) ও তার এক সঙ্গীকে। পলাতক বাকি দুই অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত মহিলার নাম নাহিদা পারভিন। স্বামীর মৃত্যুর পর নাবালিকা কন্যার সঙ্গে থাকতেন তিনি। নাবালিকা চেয়েছিল, বাবার মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাওয়া ৪৫ লক্ষ টাকা তুলে দেওয়া হোক প্রেমিক আরবাজের হাতে। কিন্তু নাহিদা তাতে রাজি হননি। তার জেরেই নাহিদাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। গত ২৪ এপ্রিল রাতে আরবাজ ও তার তিন সঙ্গী বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে নাহিদাকে। ধস্তাধস্তিতে ঘাড়েও গুরুতর আঘাত পান মহিলা। সূত্রের খবর, মাকে খুনের জন্য আরবাজের সঙ্গীদের মোট ১২ লক্ষ টাকা দিয়েছিল নাবালিকা। খুনের পর নাহিদার দেহ রাখা হয়েছিল ফ্রিজারে। প্রমাণ লোপাট করার জন্য সরিয়ে ফেলা হয় বিছানা-বালিশও। পরদিন আত্মীয়দের ফোন করে অভিযুক্ত নাবালিকা জানায়, শৌচাগারে পড়ে মৃত্যু হয়েছে মায়ের। যদিও শেষকৃত্যের সময় নাহিদার ঘাড়ে চোট দেখে সন্দেহ তৈরি হয়। পুলিশকে খবর দেন আত্মীয়রা। তারপরেই খুনের বিষয়টি সামনে আসে। ঘটনার তদন্তে নেমে আরবাজ ও তার এক সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আটক করা হয়েছে ওই নাবালিকাকেও। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।