নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বেহাল রাস্তার জেরে দাশনগরে টোটো উলটে প্রাণহানির ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। দাশনগরের সিটিআই রোডে শনিবার দুপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এদিন সকাল থেকেই শুরু হয় রাস্তা সারাইয়ের কাজ। গর্তগুলিতে ইটের খোয়া, মাটি ও বালি ফেলে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দুর্ঘটনার পর এই যুদ্ধকালীন তৎপরতাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, আগে রাস্তা সংস্কার হলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।
শনিবার দাশনগরের সিটিআই রোডে টোটো উলটে মৃত্যু হয় লক্ষ্মণপুরের বাসিন্দা রমেশ নস্করের (৪২)। কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে যাওয়ার পথে টোটোটি রাস্তার একটি বড়ো গর্তে পড়ে উলটে যায়। টোটোর যাত্রীরা ছিটকে পড়েন রাস্তায়। মাথায় গুরুতর আঘাত পান রমেশ। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়িতে স্ত্রী ও ১২ বছরের এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমেছে পরিবারে।
এই ঘটনার পর সিটিআই রোডের দীর্ঘদিনের বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক বছরের উপর রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ। মাসের পর মাস সংস্কার হয়নি। বছরের অধিকাংশ সময় গর্তগুলিতে জল জমে থাকে। চলতি বর্ষায় সেই সমস্যা আরও বেড়েছে। ফলে গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যান-চালকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। টোটো উলটে যাওয়ার মতো ঘটনাও মাঝেমধ্যে ঘটছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। এদিন সকাল থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতের কাজ শুরু হয়। ইটের খোয়া, মাটি ও বালি দিয়ে বড়ো গর্তগুলি ভরাট করে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়। শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে পুজোর আগেই শহরের খারাপ রাস্তাগুলিতে প্যাচওয়ার্কের কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকারি তরফেও মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।