Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উপনির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে অভিযোগ অধীরের, বিক্ষোভ কংগ্রেসের

উপনির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে বিজেপি—এমনই অভিযোগ তুলে রেজিনগর থানার সামনে বিক্ষোভে বসে পড়েন কংগ্রেস প্রার্থী

উপনির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে অভিযোগ অধীরের, বিক্ষোভ কংগ্রেসের
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর:  উপনির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে বিজেপি—এমনই অভিযোগ তুলে রেজিনগর থানার সামনে বিক্ষোভে বসে পড়েন কংগ্রেস প্রার্থী। অপরদিকে বহরমপুরে জেলাশাসকের অফিসের সামনে রাস্তা অবরোধ করে ধরনায় বসেন অধীর চৌধুরী সহ কংগ্রেস কর্মীরা। রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গে অধীর বলেন, ‘কংগ্রেস এই ভোট মানছে না। রেজিনগরে পুলিশের মদতে বিজেপির নীরব সন্ত্রাস চালিয়েছে। রিগিং করতে নতুন পন্থা আমদানি করেছে ওরা। ভোট ময়দানে অপরাধীদের ব্যবহার করা হচ্ছে।’ কারা সেই অপরাধী? অধীর সরাসরি আঙুল তুলেছেন ঋতপন্থী  গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত সমাজবিরোধীদের দিকে।  

Advertisement

কংগ্রেসের সুরে অভিযোগ তুলে এদিন সকাল থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির শীর্ষনেতা হুমায়ুন কবীর। শক্তিপুরে ভোট দেওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে মুগুর হাতে রুখে দাঁড়াতে কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি। পরে দলীয় কার্যালয় থেকে বুথ পরিদর্শনে যাওয়ার চেষ্টা করতেই তাঁকে আটক করে রেজিনগর থানার পুলিশ। বাবার এহেন অবস্থায় অসহায় বোধ করেন প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ। কিছু পরেই ভোট ময়দান থেকে রণেভঙ্গ দেন তিনি। এদিকে, দুই তৃণমূল শিবিরের প্রার্থীও  সেভাবে ভোট করাতে পারলেন না। সারাদিন ঘরবন্দি থাকলেন মমতা তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ কয়েকটি বুথ ঘুরে চলে আসেন বাড়িতে। রেজিনগরের ফাঁকা রণাঙ্গনে দাপিয়ে বেড়ালেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের দলবল। 
সবকিছু দেখে শুনে এদিনই আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর গণনাকেন্দ্রে যাবেন না। ফলাফল তাঁর জানা হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে গোলামের সংযোজন—‘আমি এমন কোনো রাজনীতি করতে চাই না, যার খেসারত দিতে হবে আমার সঙ্গে থাকা কোনো ব্যক্তি বা আমার দলের সমর্থকদের। তাঁদের ক্ষতি হবে। পুলিশের হয়রানির মুখে পড়তে হবে। তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর হবে। উপনির্বাচনের প্রচারে যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, তাঁদেরকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ রেজিনগরের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেলে আমি এবং আরও কিছু রাজনৈতিক দল আগামী ৯ তারিখ, ফলাফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করত। আজ সবাই নিশ্চয় বুঝে গিয়েছেন ফলাফল কি হতে চলেছে! এটা গণতন্ত্র নয়।’
গোলাম বলেন, ‘কৌশলগত কারণেই আমরা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে একাধিক বুথে এজেন্ট বসাইনি। পরিবর্তে নির্দল প্রার্থীর হয়ে আমাদের এজেন্টরা বসেছিলেন। ৩১৫টি বুথের মধ্যে ২৫০টির বেশি বুথে সকাল ৮টার মধ্যে আমাদের এজেন্টদেরকে হয় বের করে দেওয়া হয়েছে অথবা তাঁদেরকে বসতে দেওয়া হয়নি। ভোট চলাকালীন আমার দলের প্রায় ৩০ জন এজেন্টকে পুলিশ আটক অথবা গ্রেপ্তার করেছে। তাই সকলের নিরাপত্তার কথা ভেবে যাঁরা বুথে বসেছিলেন তাঁদের দুপুর ১টার বহু আগেই প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’ 
অধীর অবশ্য আমজনতা উন্নয়ন পার্টির এমন অবস্থানকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘হুমায়ুনকে লোককে দেখানোর জন্য প্রতিবাদী সাজানো হয়েছে। ২০২৯ অবধি ওঁর এই প্রতিবাদী চেহারাটা বজায় থাকবে।’ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রতিটি বুথেই এজেন্ট দিয়েছিলাম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার এজেন্টদের তুলে দেওয়া হয়। সাকুল্যে ২৫-৩০টি বুথে এজেন্ট ছিলেন বলে শেষ জানতে পেরেছিলাম। অন্যান্য দলেরও কোনো এজেন্ট কোথাও ছিল বলে আমার মনে হয় না।’ এদিকে, বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, ‘মানুষ উৎসবের মেজাজে ভোট দিয়েছেন। বোধনের আগেই দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গিয়েছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ