নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দুর্গাপুজোর ভিড় সামলাতে কোমর বেঁধে নামছে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন। ষষ্ঠী থেকে দশমী— অর্থাৎ ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত যাত্রী চাপ সামলাতে বাড়তি ট্রেন, রাতের বিশেষ লোকাল, অতিরিক্ত টিকিটের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবা, সব দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে। রেলের হিসাব অনুযায়ী, এই ক’দিন হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন সাত থেকে আট লক্ষ যাত্রীর চাপ পড়তে পারে।
রেল জানিয়েছে, ভিড়ের কথা মাথায় রেখেই এই পর্বে হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি, নয়াদিল্লি, পাটনা, কাটিহার, লামডিং ও রক্সৌল সহ বিভিন্ন গন্তব্যে সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। মোট ১৭৪টি ট্রিপের ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি সাত জোড়া বিশেষ ইএমইউ ৭০টি ট্রিপ করবে। ডিভিশনের মধ্যে চলবে ২৫ জোড়া পুজো স্পেশাল। হঠাৎ যাত্রী চাপ বাড়লে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য দু’টি সংরক্ষিত ও চারটি অসংরক্ষিত স্ট্যান্ডবাই রেকও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। রাত জেগে ঠাকুর দেখে বাড়ি ফেরার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করছে রেল। ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর রাতে সাতটি বিশেষ ইএমইউ চলবে বর্ধমান-হাওড়া, হাওড়া-চন্দনপুর, ব্যান্ডেল-হাওড়া, তারকেশ্বর-শেওড়াফুলি সহ বিভিন্ন রুটে। হাওড়া ও শিয়ালদহের মধ্যে রাতের যোগাযোগ বাড়াতে ডানকুনি ও নৈহাটি হয়ে পরিষেবাও থাকছে।
রেলের দাবি, পুজোর সময় রেল নিরাপত্তায় থাকছে বাড়তি কড়াকড়ি। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত চলা ৭৫টি রাতের ট্রেনে এসকর্ট থাকবে। প্রতিটি দলে থাকবেন মহিলা আরপিএফ কর্মী সহ দু’জন। রেললাইনের ৫০ মিটারের মধ্যে থাকা ৪৬টি পুজোমণ্ডপ বিশেষ নজরদারিতে রাখা হবে। হাওড়ায় পুজোর ডিউটিতে থাকবেন ৬৪ জন আরপিএফ আধিকারিক ও ২৫৪ জন কর্মী। ২ হাজার ৯০২টি সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি ১২৮টি সোলার ক্যামেরাযর মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। ওয়ার রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সব গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিশেষ দল সক্রিয় থাকবে। হাওড়া, রামপুরহাট, ব্যান্ডেল ও বর্ধমানে থাকবে ক্যুইক রিঅ্যাকশন টিম।
আপৎকালীন চিকিৎসার ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি নিয়েছে রেল। হাওড়া, ব্যান্ডেল, বর্ধমান, কাটোয়া, বোলপুর ও আজিমগঞ্জ স্টেশনে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে। রামপুরহাটে তৈরি হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র। হাওড়া ও বর্ধমান স্টেশনে ২৪ ঘণ্টা তিন শিফটে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকবেন। ডিআরএম বিশাল কাপুর বলেন, ‘পুজোর আনন্দ শেষে যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই বাড়তি ট্রেন, রাতের পরিষেবা, নিরাপত্তা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার এবং রেলকর্মী ও আরপিএফের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন করছি।’