নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নিরাপত্তা উপদেষ্টার পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠল। প্রতারিতদের প্রথমে দেহরক্ষী হিসাবে চাকরি দেওয়া হত। এরপরেই তাঁদের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। টাকা নেওয়ার পরই যোগাযোগ বন্ধ করে দিত অভিযুক্ত। আনন্দপুর থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। তার ভিত্তিতে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম বিশ্বরঞ্জন রাউত। তার সঙ্গে আরও একজন সহযোগী হিসাবে রয়েছে। বিকি নামে সেই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারীর নাম নবারুণ ঘোষ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাধবপুরের বাসিন্দা তিনি। নবারুণের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসাবে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন বিশ্বরঞ্জন। সরকারি পরিচয়পত্রও দেখানো হয়। ওই ব্যক্তির দেহরক্ষীর প্রয়োজন বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। তা দেখে যোগাযোগ করেন নবারুণ। তাঁকে দেহরক্ষী হিসাবে চাকরি দেওয়া হয়। সেই সময়েই নবারুণ অভিযুক্তকে জানায়, তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই চাকরির অত্যন্ত প্রয়োজন। চাকরি পাকা হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই কম সুদে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয় নবারুণকে। তাঁর দাবি, সরকারি আধিকারিক হওয়ায় তাঁর অনেক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সেই মতো গত ২৮ আগস্ট রুবির কাছে আসতে বলা হয় নবারুণকে। অভিযোগ, সেখানে অগ্রিম ৩০ হাজার টাকা চায় বিশ্বরঞ্জন। টাকা হস্তান্তর করতে বলা হয় বিশ্বরঞ্জনের ঘনিষ্ঠ বিকিকে। সেই টাকা দিলেই অ্যাকাউন্টে লোন বাবদ ২ লক্ষ টাকা ক্রেডিট হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় মূল অভিযুক্ত। রুবি মোড়ের কাছেই বিকিকে ৩০ হাজার টাকা দেয়। সেখানেই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু, কোনো টাকাই অভিযুক্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হয়নি। এরপরে একাধিকবার বিকি ও বিশ্বরঞ্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নবারুণ। কিন্তু, সেই চেষ্টা বৃথা হয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরেই আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন অভিযোগকারী। লালবাজার সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের সন্ধান চলছে। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, তিনি শুধু একা নন, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টার পরিচয় দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিকজনকে প্রতারিত করেছে। বডিগার্ড হিসাবে প্রত্যেককেই চাকরি দিয়ে তোলাবাজি চালানো হত বলে অভিযোগ।