


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে বাবা ও ছেলেকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ইনজামুল হককে গ্রেপ্তার করল পুলিস। রাজ্য পুলিসের এসটিএফ বুধবার রাতে তাকে সূতি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। সে জাফরাবাদের পার্শ্ববর্তী শুলিপাড়ার বাসিন্দা। অভিযুক্ত যুবক ওই জোড়া খুনের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে এবং খুনের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিস। জঙ্গিপুর মহকুমায় সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান, সূতি ও রঘুনাথগঞ্জে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তাতে মোট ৬০টি মামলা দায়ের হয়েছে। মোট ২৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সমস্ত মামলা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। ১১ সদস্যের ওই দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিআইজি মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ। এদিন সিটের সদস্যরা সামশেরগঞ্জ থানার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে এদিন সামশেরগঞ্জে আসেন ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির ১০ সদস্যের একটি দল। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন।
দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতিম সরকার বলেন, তদন্ত চলছে। প্রত্যেকটি কেসকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত আছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। প্রত্যেককে আমরা ধরব, তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন। আমরা তাদের ধরে আদালতে চার্জশিট দিয়ে শাস্তি সুনিশ্চিত করব।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ এপ্রিল চন্দন দাস এবং হরগোবিন্দ দাসকে খুনের ঘটনায় আগেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজ্য পুলিসের এসটিএফ সূতি থানা এলাকা থেকে ইনজামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোয় যারা পরিকল্পনা করেছিল এবং প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিল, তার অন্যতম ইনজামুল। শুধু নেতৃত্ব দেওয়াই নয়, পুলিসের হাতে যাতে কোনও তথ্য প্রমাণ না থাকে, সেজন্য ওই এলাকা এবং আশপাশের বাড়ির সিসি ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সে। এমনকী আশপাশের কয়েকটি সিসি ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টা করেছিল ইনজামুল। তাকে পুলিসি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিন জাফরাবাদে মৃত বাবা-ছেলের বাড়িতে যায় সিটের তদন্তকারী দল। মৃতের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। ঘটনার দিন কখন কীভাবে তাণ্ডব চলে, সেব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন পুলিস আধিকারিকরা। এছাড়াও তাঁরা পার্শ্ববর্তী এলাকা ঘুরে দেখেন। প্রতিটি জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক দলও।
জঙ্গিপুর পুলিস জেলার সুপার আনন্দ রায় বলেন, ‘জঙ্গিপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তদন্তের স্বার্থে যা যা করার দরকার, বিশেষ তদন্তকারী দল সব করবে। আজ থেকেই তারা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে মোট ৬০টি মামলা রুজু হয়েছে এবং মোট ২৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে নতুন করে গতকাল রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিন জাফরাবাদের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পুলিস ও বিএসএফ আগে থেকেই এলাকায় টহল দিচ্ছে। এদিন বেশ কিছু আধিকারিক আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনার দিন কী হয়েছিল, তা আমরা পুলিসকে জানিয়েছি।