Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াই কাল হল, উস্তিতে রূপান্তরকামী খুনের ঘটনায় দিল্লি থেকে ধৃত দুষ্কৃতী

প্রায় তিন সপ্তাহ আগে উস্তিতে সোনু হালদার নামে এক রূপান্তরকামী খুন হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম কামালউদ্দিন হালদার।

ধার নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াই কাল হল, উস্তিতে রূপান্তরকামী খুনের ঘটনায় দিল্লি থেকে ধৃত দুষ্কৃতী
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রায় তিন সপ্তাহ আগে উস্তিতে সোনু হালদার নামে এক রূপান্তরকামী খুন হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম কামালউদ্দিন হালদার। তাঁকে দিল্লির মালব্যনগর থানা এলাকা থেকে ধরা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়েছেন ডায়মন্ডহারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার মিতুনকুমার দে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সোনুর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ভালো পরিমাণ টাকা ধার নিয়েছিলেন কামালউদ্দিন। সেই টাকা ফেরত চান সোনু। কিন্তু তা দিতে অস্বীকার করেন ধৃত। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এরপরই ওই রূপান্তরকামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন ওই দুষ্কৃতী। টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২৯ অক্টোবর সাতসকালে সোনুকে অটো করে উস্তির কালিকাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের তুলান গ্রামে রাস্তার ধারে ফাঁকা ধানজমিতে নিয়ে আসেন কামালউদ্দিন। অভিযোগ, সেখানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় সোনুকে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত একজন কুখ্যাত অপরাধী। পুলিশের খাতায় তাঁর নামে রয়েছে অস্ত্র আইনে মামলা। এমনকী এছাড়াও অভিযোগ, নিজের স্ত্রীকে দেহ ব্যবসায় নামতে এক প্রকার বাধ্য করেছিলেন তিনি। সোনুর সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় ছিল কামালউদ্দিনের। তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল অভিযুক্তের। খুনের পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। ট্র্যাক করে তাঁকে প্রথমে রাজস্থানের আজমির শরিফে পাওয়া যায়। কিন্তু সেখান থেকে দিল্লি চলে আসেন তিনি। অবশেষে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে।

Advertisement

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে এখানে নিয়ে এসে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। সেই সময়ে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি তদন্ত দ্রুত শেষ করা হবে।  এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে একটি অটোকে ঘটনাস্থলের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়েছিল তদন্তকারীদের। জানা যায়, তাতে করেই সোনুকে আনা হয়েছিল। তদন্তে নেমে অভিযুক্তের ব্যাপারে প্রাথমিক তথ্য পান তাঁরা। পরে মৃতের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আরও তথ্য পাওয়া যায়। এরপরই কামালউদ্দিনকে ধরতে নামে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ