সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের বড়ালঘাট থেকে স্বরূপগঞ্জ যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ফেরিঘাট। অথচ এই ফেরিঘাট সংলগ্ন নদীর ধারে যেখানে সেখানে পড়ে থাকে আবর্জনার স্তূপ। পড়ে থাকছে পলিথিন ব্যাগ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের বোতল, এমনকি বাড়ি বা হোটেলের উচ্ছিষ্ট খাবারও। স্থানীয়দের ক্ষোভ, এসব নোংরা আবর্জনার পাশ দিয়ে প্রতিদিন নদী পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, চাকরিজীবী, নিত্যযাত্রী এবং বাইরে থেকে বেড়াতে আসা হাজার হাজার মানুষকে। এছাড়া এই ফেরিঘাট সংলগ্ন স্নানঘাটে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে বহু পর্যটক-পুণ্যার্থী স্নান করেন। অভিযোগ, পড়ে থাকা আবর্জনা থেকে দূষিত হচ্ছে ভাগীরথীর জল। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দাবি উঠেছে, দিনের পর দিন এভাবে এসব আবর্জনা যাঁরা ফেলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিক প্রশাসন। যদিও নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, বিষয়টি এই প্রথম জানলাম। এ বিষয়ে পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলব।গঙ্গার ধার সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
নবদ্বীপ পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ালঘাটের এই ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ভাগীরথী নদী পেরিয়ে স্বরূপগঞ্জ ঘাটে নৌকা চলাচল করে। নবদ্বীপ ও স্বরূপগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। নদী পেরিয়ে অনেকেই কৃষ্ণনগর, মহেশগঞ্জের বিডিও অফিস সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যান। কর্মসূত্রেও বহু মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে কৃষ্ণনগর এমনকি, কলকাতায় যাতায়াত করেন। এই ঘাটের উপর নির্ভরশীল পড়ুয়াদের সংখ্যাও কম নয়। নবদ্বীপ থেকে প্রতিদিন বহু পড়ুয়া কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন কলেজে যান। আবার স্বরূপগঞ্জ, চরমাজদিয়া-চরব্রহ্মনগর, মাজদিয়া-পানশিলা, তিওরখালি-সহ আশপাশের এলাকার বহু পড়ুয়া নবদ্বীপের স্কুল, কলেজ এবং গৃহশিক্ষকের কাছেও পড়তে আসেন। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই ফেরিঘাটে যাত্রীদের ভিড় লেগে থাকে। অভিযোগ, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি যাতায়াতের পথ হওয়া সত্ত্বেও ঘাটের আশপাশে রাতের অন্ধকারে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
মাজদিয়া-পানশিলা পঞ্চায়েতের বাসিন্দা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী বান্টি দেবনাথের কথায়, যাতায়াতের সময় দুর্গন্ধের জেরে ব্যাপক ভোগান্তি হয়। আমরা বারবার বলছি দূষণমুক্তির কথা। অথচ নিজেরাই নোংরা করছি। নবদ্বীপ ফেরিঘাট জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সম্পাদক সুশান্ত হালদার বলেন, এটি পুরসভার অধীনস্থ এলাকা। আমরা আবর্জনা তুলে কোথায় ফেলব? রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা এখানে নোংরা ফেলে যাচ্ছে। কারা এখানে আবর্জনা ফেলছে, তা চিহ্নিত করতে প্রয়োজনে পুরসভার তরফে সিসি ক্যামেরা বসানো হোক। -নিজস্ব চিত্র