নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সারা বাংলায় এখন একটাই স্বর—জাস্টিস ফর প্রদীপ কর। যাদের জন্য তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন, তাদের আগামী দিনে তৃণমূল জেলে পাঠাবে। তার জন্য যত লড়াই করতে হয় লড়ব। আগরপাড়ার মহাজাতিনগরে এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী প্রদীপ করের (৬৭) বাড়িতে এসে বুধবার এই ভাষাতেই লড়াইয়ের সুর বাঁধলেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার স্বার্থে নেতা-কর্মীদের রাস্তায় নেমে আন্দোলনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে থাকারও নির্দেশ দেন।
এদিন বেলা তিনটে নাগাদ মহাজাতিনগরে মৃত প্রদীপবাবুর ফ্ল্যাটে পৌঁছন অভিষেক। তাঁর প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর অসুস্থ ভাই তপন কর এবং পরিবারের বাকিদের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মিনিট ২০ সেখানে থাকার পর নীচে নেমে এসআইআর, এনআরসি এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে গর্জে ওঠেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেন্দ্র সরকার যখন যাকে ইচ্ছে বাংলাদেশি বলে ঘোষণা করে দিচ্ছে। কাউকে আবার রোহিঙ্গা বলছে। তাঁর প্রশ্ন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বাবার নাম ভোটার তালিকায় আছে? উনি পারবেন ডকুমেন্টস দেখাতে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাবার জন্মের সার্টিফিকেট দেখাতে পারবেন? প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তাঁর ক্যাবিনেটে মন্ত্রীরা তাঁদের বাবা, ঠাকুর্দার জন্মের সার্টিফিকেট দেখাতে পারবে? যারা ইলেকশন কমিশনে কাজ করেন, তাঁরা দেখাতে পারবেন?
অভিষেকের পরামর্শ, স্থানীয় বিজেপি নেতারা এখানে প্রচারে এলে ওদের ঘিরে ধরবেন। বলবেন, বাবা, ঠাকুর্দার সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে। তারপর প্রচার করবে। বেঁধে রাখবেন গাছে, পোস্টে। তবে, হাত তুলবেন না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। বলবেন, আগে সার্টিফিকেট নিয়ে আয় তারপর দড়ি খুলব। প্রত্যয়ী অভিষেকের বরাভয়, এলাকাবাসী ও বাংলার মানুষদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, ভয় পাবেন না। আমরা বেঁচে আছি। আমরা বুকের রক্ত দিয়ে সকলকে রক্ষা করব। আক্রমনের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে তিনি বলেন, প্রদীপবাবুর মৃত্যুর জন্য দায়ী দেশের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, বিজেপি ভাবছে, ইডি আর ইলেকশন কমিশনকে দিয়ে আমাদের টাইট করবে। বুকের পাটা থাকলে বাংলার মানুষের গায়ে হাত দিয়ে দেখা। মানুষের শক্তি নিয়ে রাস্তায় নামব। তৃণমূল সেনাপতির নির্দেশ, বৃহস্পতিবার দল পানিহাটিতে মিছিল করবে। সারা বাংলা জুড়ে একটাই স্বর, জাস্টিস ফর প্রদীপ কর― এই স্লোগানকে সামনে রেখে মিছিল হবে। সারা বাংলায় প্রতিবাদ হবে!
তবে এদিন আত্মঘাতী প্রদীপবাবুর সুইসাইড নোট নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি কৌশিক চট্টোপাধ্যায় (ভোলা) বলেন, পাড়ার বাসিন্দা হিসেবে প্রদীপবাবুর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা। তিনি লিখতে পারতেন না। তাঁর জামাইবাবুও সংবাদমাধ্যমে তা স্বীকার করেছেন। তারপরও এই সুইসাইড নোট কিভাবে, কোন হাতে লিখলেন? নিরপেক্ষ তদন্ত হলে নিখুঁত চিত্রনাট্যটি প্রকাশ্যে আসবে। যদিও পরিবার ও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তিনি বাম হাতে মাঝে মধ্যে লিখতেন।