সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: পুজো শুরু হতেই আবাসনগুলিতেও ব্যস্ততা তুঙ্গে। থিমের ছোঁয়া আবাসনের পুজোতেও। পাশাপাশি, আবাসিকদের একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে পুজোর ক’দিন। বারুইপুরের মদারাট পঞ্চায়েত এলাকায় মার্লিন ঐক্য আবাসন। প্রায় ১৭০টি পরিবার আছে সেখানে। আবাসনের ভিতরে মণ্ডপ নির্মিত হয়েছে জমিদার বাড়ির আদলে। ডাকের সাজে দুর্গা প্রতিমা। অন্য এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আবাসনের পুজো কমিটির সদস্য রূপা নন্দন, বিউটি ঘোষ, পাপিয়া নন্দী, জুলি নন্দন, প্রিয়াঙ্কা বৈদ্য, শিপ্রা মুখোপাধ্যায়, চুমকি শ্যামল, রিনা প্রামাণিকরা রয়েছেন আয়োজনে। তাঁদের কথায়, পুজোয় আমরা তৈরি। ছেলেরা-মেয়েরা মিলে মিশে পুজো হচ্ছে। আটঘরা থেকে এসেছে দেবী মূর্তি। রূপা নন্দন আরও বলেন,আবাসনের মেয়েদের ব্যান্ড পারফর্ম করবে। রয়েছে দম্পতিদের র্যাম্প শো, ডান্ডিয়া নাচ থেকে দেবীবন্দনা, নাটক। আবাসনের সভাপতি মৃন্ময় দে বলেন, মায়ের ভোগ হয় নিরামিষ। খিচুড়ি, পোলাও সবই দেওয়া হয়। কয়েকদিন একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া করে আনন্দে মেতে ওঠা হয়। বারুইপুরের যোগী বটতলায় আর্যক সোনার কেল্লা আবাসনের পুজো এবার আট বছরে পড়েছে। পুজোর সঙ্গে জড়িত পুজা চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বতী মাইতি, কেকা মণ্ডল, অনন্যা ঘোষ, শ্রাবণী মজুমদার, লিপি পোদ্দার, ঝুমা দাস, কৃষ্ণা নস্কর, স্বাগতা জানা বলেন, থিম এবারে বাংলার হস্তশিল্প। কুলো, ঝুড়ি, ঘণ্টা,পাখা দিয়ে মণ্ডপ। মা সাবেকি। দেড়শো পরিবার আছে আবাসনে। আঁকা প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ডান্ডিয়া নাচ, কাপল ড্যান্স, নাটক সবই থাকে অনুষ্ঠানে। সপ্তমীতে লুচি, ছোলার ডাল, নবমীতে পোলাও, পনির, আর অষ্টমীর দিন খিচুড়ি, লাবড়া একসঙ্গে খাওয়া হয়। মাকে অষ্টমীর দিন পায়েস দেওয়া হয়। বারুইপুর খাসমল্লিকের সিদ্ধা সাবার্বিয়া আবাসনের পুজো এবার চতুর্থ বছরে পড়েছে। পুজোর সঙ্গে জড়িত স্নিগ্ধা বন্দ্যোপাধ্যায়, কথাকলি বর্মন, দেবযানী চক্রবর্তী, কেয়া রায়, শুক্লা বাগচী বলেন, গ্রাম বাংলার রূপ এবার আমাদের মণ্ডপে। খড়ের ছাউনি মণ্ডপে মা। মাকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়। অষ্টমীর দিন খিচুড়ি ও লুচি দুটোই আবাসিকরা একসঙ্গে বসে খাওয়া হয়। প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। নবমীর দিন ডান্ডিয়া নাচ দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান। সোনারপুরের আম্রকুঞ্জ আবাসনের পুজো ২০ বছরে পড়েছে। পুজো কমিটির সদস্য অনির্বাণ ভট্টাচার্য বলেন, সবাই মিলে একসঙ্গে পুজোর আয়োজন করা হয়। চলে নানা অনুষ্ঠান ও একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া। নিজস্ব চিত্র



