নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘যত রক্ষাকবচই থাকুক, ভ্যানিশ কুমারকে যেতেই হবে। ঝড় আসছে ঝড়।’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে আজ মুম্বইতে শুরু হচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। তার আগে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এমনই মন্তব্যে আন্দোলনে অক্সিজেন জোগালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, সিজেপির আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করি। ওদের সঙ্গে যোগাযোগও আছে। ওরা যেমন নেমেছে, আমরা বিজেপি বিরোধী দলগুলিও জাতীয়স্তরে একজোট হয়ে নামছি। ঝড় আসছে ঝড়। ভ্যানিশ কুমারকে যেতেই হবে। মমতা বলেন, যে আইনের বলে জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, সংসদে বিজেপি তো সেই বিল ১৪৭ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করে পাশ করেছিল। ফলে সেই বিলই বেআইনি বলেই দাবি করে তৃণমূলনেত্রী জানান, ওই আইনের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা একজোট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছি।
যদিও আঞ্চলিক তথা রাজ্যস্তরে এখনো খোলামনে বিজেপি বিরোধী জোটের পক্ষে অ্যালার্জি কাটেনি তৃণমূলনেত্রীর। দিল্লির পাশাপাশি কলকাতাতেও আগামীদিনে হবে জ্ঞানেশকে পদচ্যূত করার চাপ বাড়াতে বিজেপি বিরোধী জনসভা। হবে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার বিক্ষোভ কর্মসূচিও। কিন্তু সেখানে সিপিএম এবং কংগ্রেসের আঞ্চলিকস্তরের নেতানেত্রীদের সঙ্গে একমঞ্চে বসতে খোলামনে সায় নেই তৃণমূলের। মমতার মন্তব্য, জাতীয়স্তরে আমরা সব একজোট। রাজ্য রাজনীতির প্রশ্নে প্রদেশস্তরে পার্থক্য থাকতেই পারে।
বৃহস্পতিবার ১৮১ সাউথ এভিনিউতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মমতা। অভিষেক, সাজদা আহমেদ, প্রতিমা মণ্ডল, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্রদের মতো দলের বর্তমান-প্রাক্তন ১০ সাংসদকে পাশে নিয়ে বসেন মমতা। পিছনে লেখা হোডিং—‘অ্যারেস্ট জ্ঞানেশ কুমার ফর দ্য ভোট চোরি ইন ইন্ডিয়া।’ সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যেই সামনা হাওয়া চলতেই ওই হোডিং হেলে পিছনে পড়ে। যদিও মমতা এটিকে শুভ ইঙ্গিত দাবি করেন। বলেন, হাওয়া ভালো। হাওয়ায় হেলে পড়ছে মানে ভ্যানিশ কুমারকে যেতেই হবে। খেলা শুরু হয়ে গেছে। আগামী দুই, তিন বা ছয় মাসে কী হয় দেখুন।
মমতার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার আর সীমা খান্না মিলে বাংলার ভোট লুট করেছেন। এসআইআর থেকে ভোটের গণনা, হাইজ্যাক করেছে কমিশন। মানুষের রায়ের সঙ্গে চিটিং করেছে। বিজেপিকে বাংলা উপহার দেওয়াই ছিল ভ্যানিশ কুমারের লক্ষ্য। তাই তৃণমূল হারতেই নির্বাচন সদনে জ্ঞানেশ কুমার মিষ্টি বিলি করেছেন বলেই অভিযোগ করেন মমতা। সীমা খান্না সহ কমিশনের কয়েকজনের আধিকারিককে গ্রেপ্তার করতে হবে এই দাবিতে সংসদ মার্গ থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন মহুয়া মৈত্র। এর আগে করেছিলেন জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে।
অভিষেকও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, আমি কমিশনকে ১০০ টা বিধানসভা কেন্দ্রের নাম দিচ্ছি। যেখানে দুপুর তিনটে থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখাক। কেন ভোটের পরেই জুনের গোড়ায় চার হাজার ইভিএম আগুনে পুড়ে গেল? কেন ওই ঘটনার জন্য এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি? কেন কোনো তদন্ত হয়নি? অভিষেক আরো বলেন, আমরা বিরোধীরা আক্রমণ করছি জ্ঞানেশ কুমার, কমিশনকে। বিজেপি কেন আগ বাড়িয়ে তার জবাব দিচ্ছে? এতেই তো স্পষ্ট বিজেপি আর কমিশনের আঁতাত রয়েছে।