Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

পুরুলিয়ায় ২৫৬ একর জমিতে তৈরি হবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বেসরকারি কারখানা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা দেখছে রঘুনাথপুরবাসী

রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে চলেছে। পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের রুকনি মৌজায় (জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী ফেজ-২ শিল্প পার্কে) প্রায় ২৫৬ একর জমির উপর গড়ে উঠবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা।

পুরুলিয়ায় ২৫৬ একর জমিতে তৈরি হবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বেসরকারি কারখানা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা দেখছে রঘুনাথপুরবাসী
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে চলেছে। পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর ২ নম্বর ব্লকের রুকনি মৌজায় (জঙ্গলসুন্দরী কর্মনগরী ফেজ-২ শিল্প পার্কে) প্রায় ২৫৬ একর জমির উপর গড়ে উঠবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা। রাজ্য সরকারের তরফে জুপিটার ডিফেন্স প্রাইভেট লিমিটেড নামক সংস্থাকে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। 

Advertisement

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি ক্ষেত্রে বড়ো আকারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে চলেছে। এই কারখানাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা, সহায়ক শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রস্তাবিত কারখানার খবর চাউর হতেই এলাকায় খুশির হাওয়া। রাজ্যের পূর্তদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী নদীয়ার চাঁদ বাউরি বলেন, ‘কারখানার জন্য জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে কবে থেকে কাজ শুরু হচ্ছে এবং বিনিয়োগের খুঁটিনাটি জানা নেই।’
সম্প্রতি কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে রাজ্য সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে শিল্পের জন্য জমি বন্টন নিয়ে এক অনুষ্ঠান হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠান থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কারখানার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়া সফরে এসে বলেছিলেন, ‘নিজের হাতে রঘুনাথপুরে একটি শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। রঘুনাথপুরে আগামী এক বছরের মধ্যে এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।’
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় ১৭ বছর আগে বাম আমলে রঘুনাথপুর শিল্প পার্কের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে রুকনি এলাকায় আধুনিক কর্পোরেশনকে ইস্পাত কারখানার জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সংস্থা কারখানা করেনি। ফলে তা অব্যবহৃত অবস্থায় সরকারের কাছে ফিরে এসেছে। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, সেই সময় রুকনি, রায়বাঁধ, মৌতড় এলাকার মানুষ শিল্পের জন্য জমি দিয়েছিল। জমি অধিগ্রহণের পর আর কোনো কাজ হয়নি। তৃণমূল সরকারের সময়ও এলাকায় কোনো ভারী শিল্প আসেনি। রঘুনাথপুর এলাকায় কিছু কারখানা হলেও সেগুলি ‘রেড’ ক্যাটিগরির। দূষণ সৃষ্টিকারী সেসব কারখানা নিয়ে মানুষের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের কারখানা হলে মানুষ তাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাবে। এলাকায় এমন কারখানা হলে অনেকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদী তাঁরাও। 
প্রস্তাবিত কারখানার জমির এক পাশে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের আদ্রা-গোমো লাইনের রুকনি স্টেশন। এখানে কারখানার কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত দ্রব্য রপ্তানি সহজে করা যাবে। অন্য পাশে রঘুনাথপুর-চেলিয়ামা সড়কের মৌতড় বাসস্ট্যান্ড। রেল, সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি সামনেই রয়েছে দামোদর নদ। ফলে শিল্প উপযোগী সমস্ত সুবিধা রয়েছে। সব মিলিয়ে আশায় বুক বাঁধছে পুরুলিয়া জেলা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ