Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফুচকা বিক্রেতা বাবার এক মেয়ে উকিল, অন্যজন আইনের ছাত্রী

বাগনানের কাঁকটিয়া গ্রামের রূপা সামন্ত। তিনি ফুচকা তৈরি করেন। তাঁর স্বামী ঘুরে ঘুরে ফুচকা বিক্রি করেন। তাঁদের তিন কন্যা।

ফুচকা বিক্রেতা বাবার এক মেয়ে উকিল, অন্যজন আইনের ছাত্রী
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বাগনানের কাঁকটিয়া গ্রামের রূপা সামন্ত। তিনি ফুচকা তৈরি করেন। তাঁর স্বামী ঘুরে ঘুরে ফুচকা বিক্রি করেন। তাঁদের তিন কন্যা। সংসার চলেছে ফুচকা বেচার টাকায়। সে টাকাতেই মেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন। এখন এক মেয়ে হাইকোর্টের আইনজীবী। আর এক মেয়ে পড়ছেন আইন কলেজে। আর এক মেয়ে সপ্তম শ্রেণিতে। 

Advertisement

রূপা সামন্তর জীবন মসৃণ ছিল না। একসময় এমন ছিল যে, স্বামী রাম সামন্তর রোজগার নিয়মিত ছিল না। বাড়িতে বসে ছাতা সেলাই করতেন। কোনোরকমে কিছু উপার্জন করতেন। রোজ কাজ মিলত না। সংসার চালাতে ও সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব সামলাতে রোজগারের কিছু ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রূপাদেবী। তখনই ফুচকা বানাবেন বলে ঠিক করেন। সে কাজ শিখলেন। স্বামী ছাতা সেলাইয়ের পাশাপাশি ফুচকা নিয়ে বেরতেন রাস্তায়। বিক্রি করে কিছু টাকা হাতে আসতে থাকল তাঁদের। রূপাদেবী এবার যোগ দিলেন স্বনির্ভর দলে। কিছু টাকা সঞ্চয় করে গোষ্ঠী থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করলেন। সঙ্গে পুষ্টিকর আনাজের বাগান। মেয়েদের পড়াশোনার জন্যও ঋণ নেন। সে টাকা মেটান। সকালে ফুচকা বানান। বিকেলে ছাতা সেলাই করেন।
মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে বড়ো করার স্বপ্ন ছিল রূপার মনে। সে স্বপ্ন সফল হয়েছে। রূপাদেবী মেয়েদের নিরন্তর সাহস জুগিয়ে গিয়েছেন। একাধিক কাজ করে দারিদ্র মিটিয়েছেন সংসারের। মা যে পথে হেঁটে সফল হয়েছেন সে দেখানো পথে গিয়ে মেয়েরাও আজ সফল। রূপাদেবী অনেকের কাছে দশভুজার মতো সম্মান পান।  রূপা সামন্ত। -নিজস্ব  চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ