নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগেই শহরের রং বদল! নীল-সাদা যুগ পেরিয়ে গত চার মাসে শহরের ফুটপাতের রেলিং কোথাও গেরুয়া, কোথাও ইটের রং, কোথাও আবার জাতীয় পতাকার তিন রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এবার কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে শহর সাজছে বাসন্তী রঙে। পুরসভা সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ায় ইডেন গার্ডেনে বিশেষ ‘আগমনি’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আগেই রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে আলো, সবদিক থেকে শহরকে ঝকঝকে করে তোলার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে উল্টোডাঙা থেকে সল্টলেক ঢোকার মুখে, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে, আমেরিকান সেন্টারের সামনে পার্ক স্ট্রিট ছাড়াও শহরের বিভিন্ন অংশে মিডিয়ান স্ট্রিপে রং বদলের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে হলুদ বা বাসন্তী রংয়ের পোঁচ পড়ছে। পুরসভার অন্দরে খবর, প্রশাসক তথা কমিশনার প্রাথমিকভাবে মিডিয়ান স্ট্রিপে তৃণমূল আমলের বরফি বা ডায়মন্ড কাট ডিজাইন বদলের পক্ষে ছিলেন। তিনি সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো নকশায় মিডিয়ান স্ট্রিপ সাজিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছু জটিলতা এবং হাতে সময় কম থাকার কারণে পুর-ইঞ্জিনিয়াররাই বাদ সাধেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এত কম সময়ে শহরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার মিডিয়ান স্ট্রিপ কিংবা ডিভাইডারে সমুদ্রের ঢেউয়ের আদলে নিখুঁত নকশা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া তাতে বেশি রং লাগবে। খরচ বেশি। তাই আপাতত পুরানো বরফি ডিজাইনের উপরেই নীল সাদার বদলে উজ্জ্বল হলুদ বা বাসন্তী রং করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই কাজই চলছে জোরকদমে।
এদিকে, শহরের ৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা মেরামতির কাজেও হাত লাগিয়েছে পুর-কর্তৃপক্ষ। নিকাশির কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা দমদম রোড নতুন করে তৈরি হচ্ছে। শিয়ালদহ উড়ালপুল থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, এ পি সি রায় রোড, বেহালা অঞ্চলের বহু রাস্তার উপরিতল মসৃণ করার কাজ চলছে। ই এম বাইপাসের বহু জায়গায় গর্ত হয়ে রয়েছে। সেখানেও চলছে প্যাচওয়ার্ক। যদিও মাঝেমধ্যেই বৃষ্টির কারণে কাজের গতি হারাচ্ছে। পুরসভার সড়ক বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ১০ অক্টোবরের আগে সব রাস্তা চলাচলযোগ্য করে তোলাই চ্যালেঞ্জ। মাঝে টানা বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো কাজ করা যায়নি। যেখানেই পিচের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে, সেখানে বৃষ্টির জলের তোড়ে তা উঠে গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, আপাতত প্যাচওয়ার্ক করে রাস্তা মসৃণ করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় অবশ্য কংক্রিটের ব্লক দিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে। পুজোর পর শীতের মরশুমে আরও কাজ হবে।
আরও জানা গিয়েছে, শহরকে আলোকমালায় সাজিয়ে তোলার নির্দেশ পেয়েছে পুরসভার আলোক বিভাগ। ‘তিলোত্তমা’-কে অন্যান্য বছরের থেকেও বেশি আলোকোজ্জ্বল করতে হবে বলে বার্তা এসেছে উপর মহল থেকে। জানা গিয়েছে, গঙ্গার ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় প্রমাণ সাইজের রেডিয়োর রেপ্লিকা রেখে সেখানে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনানো হবে। দুর্গাপুজোর আবহে উৎসবমুখর এই প্রথম কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম দুর্গাপুজো ঘিরে আয়োজনে কোনো খামতি রাখতে নারাজ পুরসভা।