আগ্রা: চকচক করলেই সোনা হয়না! বাস্তবেই তার প্রমাণ মিলল। বৃষ্টিতে ধসে গেল রাস্তা। তৈরি হল ১৫ ফুটের গর্ত। উত্তরপ্রদেশের আগ্রা শহরের এই রাস্তা নির্মাণের খরচ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সোমবার চলতি মরশুমের প্রথম বৃষ্টিতেই শহরের একাধিক এলাকায় রাস্তা ধসে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা আবাস বিকাশ কলোনির সেক্টর-৪ এলাকায়। এখানে রাস্তার মাঝখানে প্রায় ২০ ফুট চওড়া ও ১৫ ফুট গভীর একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়। তাতে একটি ইটবোঝাই ট্র্যাক্টর ও ট্রলি তলিয়ে যায়। স্মার্ট সিটি প্রকল্পের রাস্তার এমন বেহাল দশা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর সঞ্জীব সিকারওয়ার জানান, সোমবার সকালে সেক্টর-৪ পুলিশ চৌকির কাছে নর্দমা লাইনে লিকেজের খবর পান তিনি। পুরসভার একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে আসে। পরে সন্ধ্যায় বৃষ্টি হলে রাস্তার একটা বড়ো অংশে ধস নামে। প্রায় সাত হাজার ইট বোঝাই একটি ট্র্যাক্টর-ট্রলি ওই গর্তে পড়ে যায়। কাউন্সিলরের দাবি, মে মাসেই ওই এলাকায় নর্দমা ও পানীয় জলের পাইপলাইন বসানোর পর নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ প্রথম বৃষ্টিতেই রাস্তার এই অবস্থা! শুধু সেক্টর-৪ নয়, শাস্ত্রীপুরম, পশ্চিমপুরী, শামসাবাদ রোড এবং জোনাল পার্ক রোড-সহ আবাস বিকাশ কলোনির বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় ফাটল দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। সঞ্জীব সিকারওয়ার আরও দাবি করেন, সেক্টর-৪-এর এই রাস্তা ইতিমধ্যেই ৩৭ বার ধসে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এই ঘটনায় পিএনজি, নর্দমা এবং জল সরবরাহের পাইপলাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। কাউন্সিলরদের অভিযোগ, অমৃত যোজনার আওতায় ৩১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আবাস বিকাশ কলোনিতে নর্দমা পাইপলাইন বসানোর কাজ হয়েছিল। নিম্নমানের কাজের কারণে বিভিন্ন জায়গায় নর্দমার ম্যানহোলে লিকেজ তৈরি হয়েছে। এটাই রাস্তা ধসে পড়ার অন্যতম কারণ বলে দাবি তাঁদের। এ নিয়ে তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনারের কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল।