পাঁচ শতাব্দীর পরম্পরা! কোচবিহার দেবীবাড়িতে অষ্টমীর নিশীথে শুয়োর বলি ও গুপ্ত পুজোর রহস্য
  • ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: পাঁচশো বছরের রাজকীয় ঐতিহ্য এবং এক শিহরণ জাগানো রহস্যের আবরণে মোড়া কোচবিহার রাজপরিবারের বড়োদেবীর পুজো। পাঁচ শতাব্দী আগে মহারাজা বিশ্বসিংহ যে পুজোর সূচনা করেছিলেন, সেই পরম্পরা আজও অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়ে আসছে। 

Advertisement

কোচবিহার দেবীবাড়ির মূল ঘরটি পূর্ব দিকে মুখ করে পশ্চিমমুখী অবস্থানে রয়েছে, যা চত্বরের সবথেকে বড়ো ঘর। এখানেই মহারাজার হাতের মাপে তৈরি সাড়ে এগারো হাত লম্বা সুবিশাল বড়োদেবীর প্রতিমা অধিষ্ঠিত হয়। নিয়মমাফিক প্রতিপদের দিন এই ঘরের এক কোণেই মায়ের পবিত্র ঘট স্থাপিত হয় এবং দ্বিতীয়ার সকালে রাজপরিবারের প্রাচীন রীতি মেনে এখন জেলাশাসক কোষায় বড়োদেবীকে প্রথম দর্শন করেন। মূল ঘরটিকে কেন্দ্র করে উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে আরও তিনটি ঘর রয়েছে, যেখানে রাজপরিবারের কঠোর নিয়ম মেনে আলাদা আলাদা উপাসনা সম্পন্ন হয়। বড়োদেবীর মূল পুজোটি করেন রাজপুরোহিত হিরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, যাঁর পূর্বসূরিরাও বংশপরম্পরায় এই দায়িত্ব সামলে এসেছেন। বর্তমান রাজপুরোহিত হিরেন্দ্রনাথবাবু জানান, অষ্টমীর নিশীথে প্রচলিত গুপ্ত পুজোর পাশাপাশি রাজপরিবারের প্রাচীন রীতি মেনে ‘চালিয়ে বাড়ি’ নামে আরও একটি বিশেষ পুজো করা হয়। অপদেবতার সন্তুষ্টি ও অশুভ শক্তিকে বিনাশ করার এই পুজোটি রাজপুরোহিত নিজে করেন না, এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন যিনি ব্রাহ্মণ নন। সারা রাত জেগে চলা এই পুজো লোকচক্ষুর আড়ালেই সম্পন্ন করা হয় এবং দেবীবাড়ির পিছনে থাকা ঐতিহাসিক লম্বা দিঘির ঘাটে ভোররাতে সূর্য ওঠার ঠিক মুহূর্তটিতে শুয়োর, পাঁঠা এবং পায়রা বলি দেওয়া হয়। 
মানব রক্ত বড়োদেবীকে উৎসর্গ করার মতো এই পুজোরও সমস্ত আচার মূল দেবী প্রতিমার সামনে বা সর্বসমক্ষে করার কঠোর নিষেধ রয়েছে, যা কোচবিহারের দুর্গোৎসবকে এক অনন্য ও রোমাঞ্চকর মাত্রা দিয়েছে।