রঙ্গন বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: দক্ষিণের টালিগঞ্জ, রানিকুঠি, গান্ধীকলোনিতে নজরকাড়া থিম। কারও থিম ‘জীবন যুদ্ধ’। কোনো ক্লাব বেছে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বে চলা যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা। অনেকে যদিও থিম ছেড়ে ঝুঁকেছে সাবেকিয়ানায়।
অঙ্কুর থেকে উদ্ভব। বহমান জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত। যার মধ্য দিয়ে আসে সাফল্য। আবার ব্যর্থতাও আসে। এরপর নিজের শিকড়ে ফেরা। অতএব শান্তি, সুস্থিতি। মা হলেন সেই শিকড়। তিনিই উৎস। এখান থেকেই শুরু হয় আমাদের আশা-আকাঙ্খা পূরণের লড়াই। সবশেষে পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে মিশতে হয় সেই প্রকৃতিরই কোলে। জীবজগতের এই অমোঘ সত্যই এবার টালিগঞ্জের নেতাজি জাতীয় সেবাদল দুর্গা বন্দনার থিম করেছে। যার নাম ‘জীবন।’
সাধারণত গত এক দশক ধরে নানা থিমের চমকে মণ্ডপ সাজিয়েছে নেতাজি জাতীয় সেবাদল। এবছরও তাই করেছে। এবার তিন স্তরের মধ্য মণ্ডপে পুরোপুরি কাল্পনিক জগতে পৌঁছতে হবে। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারে রয়েছে কতগুলি অ্যাবস্ট্রাক্ট ফিগার। তার মধ্যে আলো পড়ে তৈরি হচ্ছে থ্রি-ডি এফেক্ট। এই মডেলগুলি মূলত সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবনযুদ্ধের উপর তৈরি। মা ও সন্তান, তাঁতি, রিকশচালক সবাই আছেন। আরেকটি স্তরে থাকছে এক হতদরিদ্র অবস্থার কিশোরীর মডেল। যেখানে সে আয়নায় নিজেকে চিকিৎসক হিসাবে দেখতে পাচ্ছে। অর্থাৎ আকাঙ্খার প্রতীক। মূল মণ্ডপে একটি পদ্ম ও বিশাল গ্রন্থের উপর অধিষ্ঠান করবেন দেবী। তিনি স্নিগ্ধ, শান্ত। থিম শিল্পী সৌমেন মণ্ডলের কথায়, ‘দেবী দুর্গাকে আমরা জ্ঞানের প্রতীক হিসাবে দেখাব। মণ্ডপ নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে ধুঁধুল, প্লাই, টিন, লোহা চুনকাম করার ব্রাশ, ফেব্রিকের কাপড় থেকে পাটের দড়ি ও ইট।
নেতাজি জাতীয় সেবাদল ক্লাবের ঠিক বিপরীতে অভিযান ক্লাবের পুজো হয়। ঊনষাটে পা দিল এই পুজো। তারা বলছে, বর্তমান বিশ্বকে অস্থির করে রেখেছে দু’টি যুদ্ধ। পুজো কমিটির সেক্রেটারি পার্থপ্রতিম ঘোষ বলেন, ‘বিশ্ব শান্তিই অভিযানের থিম। মণ্ডপ সাদা কাপড়ের। কারণ সাদা রং শান্তির বার্তা দেয়। মণ্ডপের ভিতরে দুর্গার বিভিন্ন নাম লেখা রয়েছে। থাকছে শোলার তৈরি পদ্মের ডিজাইন। দেবীমূর্তি এখানে অস্ত্রহীন। শোলা, টিন, ফাইবার ও লোহার কাঠামো দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ।’
টালিগঞ্জের রানিকুঠি, পল্লিশ্রী এলাকা থেকে গল্ফগ্রিনে ঢুকলে দেখা যাবে, অভিজাত আবাসন এলাকার পুজো। এখানে প্রতিবছরই থিম নির্ভর পুজো হয়। কিন্তু এবার গল্ফগ্রিন ফেজ টু ফিরেছে সাবেকিয়ানায়। মণ্ডপ হবে জমিদারবাড়ির ঠাকুরদালানের আদলে। সঙ্গে একচালার সাবেকি দেবীমূর্তি এই পুজোর আকর্ষণ। পুজো কমিটির সম্পাদক পবন শর্মা বলেন, ‘এখানকার আবাসিকদের তত্বাবধানে ৪৫ বছর ধরে পুজো হচ্ছে। মূলত বাঁশ ও লোহার বড়ো বড়ো কাঠামো দিয়ে এবার গড়ে উঠছে মণ্ডপ। নানা ধরণের আলোর ব্যবহার হবে।’ থিমশিল্পী ঔমিত্র দাসের ভাবনায় মণ্ডপ, প্রতিমা। মণ্ডপে কড়ি-বরগার ডিজাইন থেকে বড়ো বড়ো সব লোহার শিকের জানালা থাকবে। তার নীচে খড়খড়ি। যেখানে খেলবে সূর্যের আলো।



