লখনউ: একের পর এক সিঁড়ি পার হয়ে ছেলে পৌঁছে গিয়েছে ইউপিপিএসসি পাশের দোরগোড়ায়। আর একটি মাত্র ধাপ। ইন্টারভিউয়ের হার্ডল টপকাতে পারলেই স্বপ্নপূরণ। সেদিন ইন্টারভিউ দিতে উত্তরপ্রদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিপিএসসি) প্রয়াগরাজের সদর দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছিল ছেলে। ছিলেন তাঁর বাবাও। চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ছেলের চুলটা যেন ঠিক আঁচড়ানো হয়নি। তবে সেই ত্রুটি নজর এড়ায়নি বাবার। ইন্টারভিউ রুমে যাওয়ার আগে তাই পরম মমতায় ছেলের চুল আঁচড়ে দিচ্ছেন বাবা। উত্তরপ্রদেশের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিপিএসসি) প্রয়াগরাজের সদর দপ্তরের ভিডিয়ো সামনে আসতেই প্রশংসায় ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া।
সরস্বতী ভবনের সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ছেলের ব্লেজার ঠিক করে দিচ্ছেন বাবা। এরপর পকেট থেকে চিরুনি বার করে ছেলের চুলও আঁচড়ে দিচ্ছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। পকেট থেকে মিষ্টি বার করে ছেলের মুখে তুলে দিচ্ছেন তিনি। এ মিষ্টি আসলে পেট ভরানোর নয়। এ মিষ্টি বাবার চিরন্তনী শুভেচ্ছা। যা যুগযুগ ধরে ভারতীয় সংস্কৃতির চিহ্ন বহন করে আসছে। আর সেই ছেলে ইন্টারভিউ রুমে যাওয়ার আগে ঝুঁকে পড়ে বাবার পা ছুঁয়ে প্রণাম করছেন। আর বাবা দিচ্ছেন সাফল্যের আশীর্বাদ।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা বাবা-ছেলের এই সুন্দর মুহূর্তটিকে নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং পারিবারিক সমর্থনের একটি অন্যতম সেরা উদাহরণ হিসাবে বর্ণনা করছেন। নেটিজেনরা বলছেন, দীর্ঘদিনের কঠিন পরিশ্রম ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ সামলে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছানো এই পরীক্ষার্থীদের পিছনে তাদের পরিবারের যে কতটা অবদান ও আত্মত্যাগ থাকে, এই ছোট্ট ভিডিওটি যেন তারই এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে। নেটিজেনরা এটিকে ‘চলতি বছরের সেরা এবং সবচেয়ে আবেগঘন ভিডিয়ো’ হিসাবে তুলে ধরেছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা বাবা ও ছেলের পরিচয় প্রকাশ করেনি কেউ। তবে পরিচয়ে কী-ই বা এসে যায়। বরং জীবনের ওঠাপড়ার মুহূর্তগুলি এভাবেই ভালোলাগায় পরিণত হয়।



