প্রায় ১০০ কিলো খবরের কাগজের প্যান্ডেল থেকে ব্রেইলের দুর্গা রাজধানীতে
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: জেন জি প্রজন্ম স্মার্টফোন স্ক্রোল করার ফাঁকেই খবর পড়তে অভ্যস্ত। কিন্তু ছাপার অক্ষরে সংবাদপত্র স্পর্শের অনুভূতিটাই আলাদা। সেই অনুভূতি এবার তুলে ধরা হবে জেন জি প্রজন্মের কাছে। আবার ভাবুন দৃষ্টিহীনদের কথা। তাঁদের কাছে ‘দুর্গা’ তো শুধুই শুনে শুনে কল্পনা করা। বদল সেই ভাবনাতেও। কারণ মা দুর্গা এবার ব্রেইলের। দিল্লিতে, প্রথমবার। সম্ভবত গোটা দেশেও। সেই কারণে খোদ ‘ইউনেস্কো’ও উৎসাহ প্রকাশ করেছে এই পুজো আয়োজনে অংশীদার হতে। কোথাও আবার পুজোয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বার্তা।

Advertisement

পাহাড়গঞ্জে আরামবাগ পুজো সমিতির পুজোর থিম ‘দ্য পাওয়ার অব প্রিন্টস নেভার ফ্রেডস।’ সমিতির চেয়ারম্যান অভিজিৎ বসুর কথায়, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যতই অনলাইন নিউজ রিলের ভিড় লেগে থাকুক, বাস্তবে কালিতে ছাপা সংবাদপত্রের তুলনা হয় না। তাই উত্তর কলকাতার পুরানো সময়ের পাড়া এবার প্যান্ডেলজুড়ে। প্রায় ১০০ কিলো খবরের কাগজ ব্যবহার হয়েছে প্যান্ডেলে। প্রতিমা সাজছে ১৬-১৭ কিলো রোলগোল্ডে।’পান্ডারা পার্কের ‘নয়াদিল্লি সর্বজনীন দুর্গা পূজা সমিতি’তে এবারের চমক ব্রেইলের মূর্তি। সাধারণ সম্পাদক অতসী চৌধুরী জানালেন, এবার একচালার চিরাচরিত মৃন্ময়ী মায়ের সঙ্গে থাকবে ব্রেইলের মূর্তি। দৃষ্টিহীনরা সেই মূর্তি ছুঁয়ে অনুভব করবে যে মাতৃমূর্তি কেমন হয়। মুর্শিদাবাদের হস্তশিল্পীর পাশাপাশি কুমোরটুলির প্রতিমা শিল্পীদের একাংশের অবদানও তুলে ধরা হবে। পুজো উদ্বোধন করবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং মুর্শিদাবাদ রানিনগরের বিধায়ক জুলফিকার আলি। কেন্দ্রীয় সরকারের আমলা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অনেকেই এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে, সোনা-রুপোর কারিগরদের ‘করোলবাগ পূজা সমিতি’র পুজোয় মা থাকবেন সাবেকি সাজে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক দীপক ভৌমিক বললেন, সারা বছর সাধারণের জন্য গয়না তৈরি করি। পুজোয় মা দুর্গাকে সাজানো হচ্ছে বাঙালি কারিগরদের হাতে তৈরি অলংকার। ‘প্যাটেল নগর পুজো সমিতি’র এবার ৬১তম বর্ষ। আয়োজকদের পক্ষে শেলী ভৌমিক জানালেন, তাঁতের শাড়িতে মা দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতীর সাজের পাশাপাশি সপ্তমী-নবমী ভোগ প্রসাদে থাকবে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। লাউ দিয়ে 
মুগ ডাল, গরম ভাতে গাওয়া ঘি, ফুলকপি কষা, ছানার ডালনা। 
শেষে মিষ্টি মুখ।মেহরলির ‘আমরা সবাই পুজো কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক কাকলি মালাকারের মন্তব্য, ‘এখানে মহিলারাই পুজোর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দুর্গাপুজো দিয়ে শুরু, কালীপুজোয় শেষ।’ দিল্লি লাগোয়া গাজিয়াবাদের বৈশালী ‘সর্বজনীন শ্রীশ্রী কালীপুজো সমিতি’ কালী আরাধনার পাশাপাশি দুর্গাপুজোও করে। এখানে পুজো হয় সাবেকি মতে। ২১তম বছরে উদ্যোক্তাদের তরফে বিশেষভাবে সক্ষমদের সম্মান জানানো হবে।