অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: তিন নম্বর গৌর মুখার্জি লেন হল নরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি। সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের পৈতৃক ভিটের অদূরেই একটি প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির আছে। স্থানীয় মানুষের কাছে তা জগন্নাথ বাড়ি নামে পরিচিত। কলকাতার অন্যতম প্রাচীন এই মন্দিরে জগন্নাথ একা বিরাজ করেন সেই শুরুর দিন থেকে। মানিকচাঁদ গোস্বামী প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরের বর্তমান সেবায়েত হল মুখোপাধ্যায় পরিবার।
জগন্নাথ মন্দিরের প্রবেশদ্বারের মাথায় রয়েছে সিংহ। ছোটো দালান পেরিয়ে মূল মন্দির। সেখানেই রথের মতো সিংহাসনে অবস্থান করছেন প্রভু জগন্নাথ। মন্দিরে বলদেব ও সুভদ্রার প্রত্যক্ষ উপস্থিতি নেই। সেবায়েতরা জানিয়েছেন, জগন্নাথের বিগ্রহে বলদেব ও সুভদ্রার পুজো সম্পন্ন হয়। কাঠের তৈরি বড়ো আকারের সিংহাসনে জগন্নাথের সঙ্গে রয়েছেন রাধামাধব, রাধাকান্তের যুগল মূর্তি। আর রয়েছেন দামোদর নামে নারায়ণ শিলা।
বর্তমান সেবায়েতরা জানিয়েছেন, মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এখানে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হত। প্রায় ৫০ বছর আগে রথের দিন পারিবারিক বিপর্যয় ঘটায় জগন্নাথের রথে ওঠায় বাধা পড়ে। তখন থেকে মন্দিরে রথের দিন বিশেষ পুজো হয়। প্রসাদ বিতরণে প্রচুর ভক্ত উপস্থিত হলেও রথ চলে না। স্নানযাত্রা, রথযাত্রা ও জন্মাষ্টমীতে বিশেষ পুজো হয়। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রীতি মেনে স্নানযাত্রার পর অন্যান্য মন্দিরে ১৫ দিন প্রভুর দর্শন বন্ধ থাকে। তবে সিমলার এই জগন্নাথ মন্দিরে প্রভু পতিতপাবন নামে খ্যাত। নিত্য জগন্নাথের দর্শন পান ভক্তরা। অভিনব এই ব্যবস্থায় পুরীর রীতি অনুসরণ করা হয় না।
উত্তর কলকাতার সিমলা স্ট্রিটের দুই জগৎ বিখ্যাত নরেন্দ্রনাথ দত্ত ও মান্না দের বাড়ির ঠিক মাঝে ২০০ বছর ধরে অবস্থান করছেন জগন্নাথদেব। এই মন্দিরে মাথা ঠেকাতে বহু দূর থেকে আসেন ভক্তরা।