Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / এই মুহূর্তে

চৈত্রের শুরুতেই ৩ অগ্নিকাণ্ডে ছাই ৯ বাড়ি, ভগবানগোলায় জোরালো দমকলকেন্দ্রের দাবি

চৈত্রের শুরুতেই ৩ অগ্নিকাণ্ডে ছাই ৯ বাড়ি, ভগবানগোলায় জোরালো দমকলকেন্দ্রের দাবি
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: গত দু’সপ্তাহে ভগবানগোলা বিধানসভা এলাকায় তিনটি অগ্নিকাণ্ডে ন’টি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে বেশ কয়েকটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। চৈত্রের শুরুতেই বারবার অগ্নিকাণ্ডে উদ্বিগ্ন মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগলে লালবাগ থেকে দমকলের ইঞ্জিন আসার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। সেজন্য এই বিধানসভা এলাকায় একটি দমকলকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

Advertisement

১৬মার্চ ভগবানগোলা থানার ধনীরামপুরে পরিযায়ী শ্রমিক আলতাব শেখের বাড়ি আগুনে পুড়ে যায়। একটি পূর্ণবয়স্ক গোরুর পুড়ে মৃত্যু হয়। তারপর থেকে আলতাব শেখের পরিবার ব্লক প্রশাসনের দেওয়া ত্রিপল খাটিয়ে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছে।
২৫মার্চ দুপুরে রানিতলা থানার চাঁদপুর গ্রামে পাশাপাশি তিনটি বাড়ি আগুনে ছাই হয়ে যায়। লালবাগ থেকে দমকলের ইঞ্জিন এসে পৌঁছনোর আগেই সব পুড়ে যায়। ২৯ মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় রানিতলা থানার নাজিরপুরের সাহাপুরে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি বাড়ি ভস্মীভূত হয়। পাঁচটি ছাগল পুড়ে মারা যায়। আগুন নেভার প্রায় আধঘণ্টা পর লালবাগ থেকে দমকলের ইঞ্জিন এসে পৌঁছয়।
চৈত্রের শুরুতেই তিনটি অগ্নিকাণ্ডে ভগবানগোলায় দমকলকেন্দ্রের দাবি জোরালো হচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দাবি পূরণে স্থানীয় বিধায়ক উদ্যোগী হোন-এমনটাই চাইছেন সর্বস্তরের মানুষ। ভগবানগোলার বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ভগবানগোলায় দমকলকেন্দ্রের গুরুত্ব তুলে ধরে আবেদন জানিয়েছি। তিনি সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি ভগবানগোলাবাসীর দাবি বাস্তবায়িত হবে।
ভগবানগোলা ১ ও ২ ব্লক নিয়ে এই বিধানসভা গঠিত। জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ লক্ষ। অথচ ঘনবসতিপূর্ণ এই বিধানসভা এলাকায় কোনও দমকলকেন্দ্র নেই। দমকলকেন্দ্রের জন্য এখানকার মানুষ কয়েকদশক ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ভগবানগোলা থেকে জয়ী হন প্রয়াত ইদ্রিস আলি। তিনি দমকলকেন্দ্রের জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু বিধায়কের অকালপ্রয়াণে সেই উদ্যোগে ভাটা পড়ে। পরবর্তীতে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে রেয়াত হোসেন সরকার এবিষয়ে উদ্যোগী হন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দাবি মেটেনি।
চর বিনপাড়ার বাসিন্দা রুস্তম মিয়াঁ বলেন, এখান থেকে লালবাগের দূরত্ব প্রায় ৩৫কিলোমিটার। বহরমপুরের দূরত্ব আরও ১০-১২কিলোমিটার বেশি। এই সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগলে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার থাকে না।
শিবনগরের বাসিন্দা মিজান আলি বলেন, গতবছর গ্রীষ্মে একাধিক এলাকায় আগুনে ঘরবাড়ি পুড়েছে। গবাদি পশু মারা গিয়েছে। অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। এবছর চৈত্রের প্রথম থেকেই অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়েছে। ভগবানগোলায় দমকলকেন্দ্র হলে এরকম ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যাবে। ভগবানগোলা-রানিতলা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক আজমল হক বলেন, এখানে দমকল কেন্দ্র হলে ভগবানগোলার পাশাপাশি লালগোলার মানুষও পরিষেবা পাবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ