


নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ না করায় ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের জেরে নয়াদিল্লি যদি রাশিয়া থেকে সস্তায় অশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করে তাহলে তার কী প্রভাব পড়তে পারে? স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) একটি রিপোর্টে এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে এল। সেখানে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার অশোধিত তেল আমদানি ভারত বন্ধ করলে চলতি অর্থবর্ষে জ্বালানি খাতে খরচ বাড়তে পারে ৯০০ কোটি ডলার। আগামী অর্থবর্ষে তা আরও বেড়ে হতে পারে প্রায় ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ চলতি অর্থবর্ষের বাকি সময় ও আগামী অর্থবর্ষ মিলিয়ে মোট প্রায় ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার বেশি খরচ হতে পারে ভারতের।
এসবিআই রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে আমদানি বন্ধ করলে ভারত বিকল্প হিসেবে ইরাকের তেল কেনার কথা ভাবতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরাক থেকেই ভারত সবচেয়ে বেশি তেল কিনত। ইরাকের পরে ছিল যথাক্রমে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। এই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে অশোধিত তেলের মোট সরবরাহের ১০ শতাংশ রাশিয়া থেকে হয়। যদি সব দেশ রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে এবং অন্য কোনও দেশ যদি তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি না করে তাহলে ১০ শতাংশ দাম বাড়বে।
এসবিআইয়ের রিপোর্টে দাবি, ইউক্রেনে হামলার কারণে রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল পশ্চিমের দেশগুলি। এই অবস্থায় ২০২২ সালের পর থেকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। দামে পর্যাপ্ত ছাড় মেলায় ব্যারেল প্রতি ৬০ মার্কিন ডলারে রাশিয়ার তেল কেনে নয়াদিল্লি। ২০২০ সালে ভারতের মোট তেল আমদানির মাত্র ১.৭ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। পরবর্তীকালে সেটি পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়ে। ২০২৫ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫.১ শতাংশ। বর্তমানে ভারতের অশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী রাশিয়াই। পরিমাণের দিক থেকে বিচার করলে ভারত মোট ২২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন অশোধিত তেল আমদানি করেছে। তার মধ্যে ৮৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন এসেছে রাশিয়া থেকে। রাশিয়ার উপর পশ্চিমের দেশগুলি নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর থেকে ভারতীয় রিফাইনার সংস্থাগুলি আমেরিকা, পশ্চিম অফ্রিকা ও আজারবাইজান থেকেও অশোধিত তেল আনা শুরু করে। রাশিয়ার সরবরাহ বন্ধ হলে ভারত ফের নিজেদের চিরাচরিত পশ্চিম এশিয়ার তেল সরবরাহকারী দেশগুলির কাছে ফিরে যেতে পারে। এবং তাদের সঙ্গে চলতি বার্ষিক চুক্তি মোতাবেকই তা করা সম্ভব। ফলে তেলের জোগানে সমস্যা হবে না। কিন্তু, রাশিয়ার তেল সরবরাহ কমে এলে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়বে। ফলে ভারতের আমদানির খরচও বাড়বে।