শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ট্রাফিক আইন ভাঙার অপরাধে ই-চালানের জরিমানা বাবদ রাজ্যের পাওনার অঙ্ক ৮৯০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিগত চার বছরে এই বিপুল পরিমাণ টাকা রাজ্যের কোষাগারে ঢোকেনি। পূর্বতন সরকার জরিমানার টাকা আদায় করতে কোনও সদর্থক ভূমিকা নেয়নি অভিযোগ। এবার ওই বকেয়া টাকা আদায়ে পদক্ষেপ শুরু করছে রাজ্য। জরিমানা বকেয়া থাকা গাড়িগুলিকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা হবে। পাশাপাশি গাড়িগুলির নতুন করে রেজিস্ট্রেশন, হাতবদল সহ সমস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে বলেই খবর। তৃণমূল আমলে ট্রাফিক আইনের জরিমানা বাবদ এই বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া থাকলেও, পালাবদলের পর হালহকিকত যে রাতারাতি পালটে গিয়েছে, এমনটাও নয়! সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিগত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জরিমানা বাবদ বকেয়া হয়েছে ২৪৩ কোটি টাকার কিছু বেশি। ক্ষমতাসীন হয়েই ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে লাগু করার বিষয়ে একগুচ্ছ ঘোষণা করেছিল নতুন সরকার। তাসত্ত্বেও ‘ভরসা ইন, ভয় আউট’ পর্বে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) মাত্র ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা বাবদ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে নতুন সরকার।
রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, ই-চালান পৌঁছনোর পরেও সিংহভাগ গাড়ি জরিমানা মেটাচ্ছে না। এক একটি গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার আট থেকে দশটি মামলা রয়েছে। কিন্তু জরিমানা না মেটানোয় সরকারের কোষাগারে বিপুল পরিমাণ টাকা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট এই জরিমানা আদায়ের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছে। তারা সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, ই-চালানের মাধ্যমে ইস্যু হওয়া জরিমানার টাকা আদায় করতে হবে। এই নির্দেশিকার পরই কেন্দ্রের তরফে রাজ্যগুলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, জরিমানা বাবদ আদায় না হওয়া অর্থের পরিমাণ কত। চলতি মাসের ৯ তারিখ দিল্লিতে এই নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের পাশাপাশি জরিমানা আদায় করতে কী কী পদক্ষেপ করা হবে, তার রূপরেখা ওই বৈঠকে তৈরি হবে বলে খবর।
রাজ্য পুলিশের তরফে বিগত চারবছরে জরিমানা আদায় না হওয়া অর্থের পরিমাণ ঠিক কত, তার কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, বিগত চারবছরে বিপুল পরিমাণ জরিমানা আদায়ই হয়নি। ঘটনাচক্রে এই সময়কালে রাজ্যে ছিল তৃণমূল সরকার। শেষের পাঁচ মাস ধরে রাজ্যের মসনদে এখন বিজেপি। বিগত চার বছরে জরিমানা করে ই-চালান ইস্যু হয়েছে ১২কোটি ৪২ লাখেরও বেশি। তাতে জরিমানা বাবদ রাজ্যের কোষাগারে আসার কথা ছিল ১২৭৬ কোটি টাকারও বেশি। তার মধ্যে ৩৮৫ কোটি টাকা আদায় হলেও, এখনও সবমিলিয়ে গিয়ে বকেয়ার পরিমাণ ৮৯০ কোটি। চলতি বছরের প্রথম ন’মাসে তার সঙ্গে জুড়েছে বকেয়া আরও ২৪৩.৭২ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, সিংহভাগ জরিমানা জমা পড়েনি। জরিমানা আদায় প্রক্রিয়া শ্লথ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলেও।