নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে ডেকেছেন, তাতে কেউ আসবেন না, এমন দুঃসাহস দেখানোর ‘সাহস’ ৪ মে-র আগে দেখা যায়নি। মমতা বৈঠক ডাকলে উত্তরবঙ্গের নেতারা আগের দিন কলকাতায় পৌঁছে যেতেন। আর বৈঠকের সময় ৪টা থাকলে, তার অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে সভা প্রাঙ্গণে চলে আসতেন নেতারা। কিন্তু ৪ মে দুপুর ১২টার পর রাজ্যে পালাবদল ঘটতেই, এমন ঘটনাও দেখা গেল নেত্রীর ডাক ‘উপেক্ষা’ করার সাহস দেখিয়ে বিতর্ক বাড়ালেন তৃণমূল বিধায়করা।
রবিবার বিকেল ৪টের সময় কালীঘাটে দলের বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বৈঠকে সাকুল্যে এলেন মাত্র ২১ জন! যেখানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ জন, সেখানে মমতার ডাকা বৈঠকে উপস্থিতির সংখ্যা অর্ধেকও হল না। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের পরে ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে মমতা প্রথম বৈঠক করেন। সেদিন বঠেকে উপস্থিত ছিলেন ৭১ জন। ওইদিন ৯ জন বিধায়ক আসেননি। তারপর ১৯ মে বিধায়কদের নিয়ে মমতা দ্বিতীয় বৈঠক করেন। সেদিন জনা ১২ বিধায়ককে কালীঘাটের বৈঠকে দেখা যায়নি। তাছাড়া ২০ মে বিধানসভায় প্রথম কর্মসূচি ছিল বিধাকেদের। ওই দিন ৪৫ জন বিধায়ক প্রথম কর্মসূচিতেই অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেল রবিবার। মমতা ডাকা সত্ত্বেও ৬০ জনের মতো বিধায়ক এলেন না। স্বাভাবিকভাবেই এদিন আর বৈঠক হয়নি!
দলের তরফে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, অনেক বিধায়ক নিজের এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে রয়েছেন। তাঁরা ফোন করে জানিয়েছেন এদিনের বৈঠকে আসতে পারছেন না। তাই এদিনের বৈঠক স্থগিত করা হয়।
তৃণমূলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে, যদি ৬০ জনের কাছাকাছি নিজের এলাকায় ব্যস্ত থাকতেন, তাহলে মিটিং-মিছিল বিভিন্ন কর্মসূচি নিতেন। কিন্তু সেসব তো সব বিধানসভা এলাকায় দেখা যায়নি। যদিও তৃণমূলের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, আজ, সোমবার রাজ্যজুড়ে ওয়ার্ড এবং ব্লক ভিত্তিক প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি।
পাশাপাশি আগামীকাল, মঙ্গলবার ধর্মতলায় রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধরনা কর্মসূচি করবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তৃণমূলের অন্দরে সবদিক নজর রাখা হচ্ছে, সোম ও মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে তৃণমূলের কোন কোন নেতা-নেত্রী রাস্তায় নামছেন।
অন্যদিকে, আগামী দিনে দলকে সংগঠিত করতে তৃণমূল নেত্রী একগুচ্ছ কর্মসূচি নিতে পারেন বলেই খবর। সূত্রের খবর, দলের বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক নেত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন, আপনি হাল ধরুন। দলকে সংগঠিত করুন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহাজোট ইন্ডিয়ার শরিক দলগুলির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বিজেপি বিরোধী লড়াইকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তৃণমূল নেত্রী। দিল্লিও যেতে পারেন।