নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতানৈক্য। ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এই প্রতিবেদন আলোড়ন ফেলেছে দেশজুড়ে। তবে ২৭ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ১৪ আগস্ট ২০২৬, নির্বাচন কমিশনের অন্দরে যখন একের পর এক আপত্তি জানাচ্ছেন দুই নির্বাচন কমিশনার, সেই সময়েও অন্তত ছ’বার একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে তিনজনকে। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল নির্বাচন সংক্রান্ত বিবৃতি, অন্যটি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টের মঞ্চ। তবে কোনো ক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে আপত্তির কথা জানাননি দুই নির্বাচন কমিশনার।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর বাংলা সহ মোট ১২ রাজ্যে এসআইআরের ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনার। সেই অনুষ্ঠানে জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অন্য দুই কমিশনারও। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস দাবি করেছে, এই ঘোষণার পরের দিন (২৮ অক্টোবর) ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সান্ধু, অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের নামে চিঠি ও নির্দেশ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানান। যদিও ঠিক কোন নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন ওই নির্বাচন কমিশনার, তা জানা যায়নি।
৪ নভেম্বর সফটওয়্যারে ইআরওদের সংযোজন বিয়োজনের অধিকার না দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানান ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমার। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সান্ধুর নির্দেশেই তিনি এই আপত্তি জানিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি সফটওয়্যার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সীমা খান্নাকে চিঠি লেখেন সঞ্জয়। ঠিক ২০ দিন পর ইসিআইনেট প্রকাশ পায়। সেখানে উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর করেছিলেন তিন নির্বাচন কমিশনারই।
এর মাসখানেক পর মে মাসে ভোটার তালিকার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানান। সান্ধু অভিযোগ করেন, সীমা খান্নার নেতৃত্বে আইটি দপ্তর দুই নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখেই ‘নতুন মডিউল’ ও ‘পোর্টাল’ তৈরি করছে। এই সময়কালের মধ্যেই অন্তত চারবার একত্রে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিন কমিশনার। ১৮ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটিতে, ১০ মার্চ কলকাতায়, ১৫ মার্চ নয়াদিল্লিতে নির্বাচন ও এসআইআর সংক্রান্ত বিবৃতি দেন। ২৫ মে দিল্লিতে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টের মঞ্চেও উপস্থিত ছিলেন তিন নির্বাচন কমিশনার। ঠিক তার ১০ দিন আগে, ১৫ মে ফর্ম ৬-এ বদল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন সান্ধু ও যোশি।