নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: আগস্টের তুলনায় কমলেও চলতি মাসে ২৪ দিনে ৫৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে মালদহ মেডিকেলে। এনিয়ে শুক্রবার রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে অবশ্য সাফাই দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের যুক্তি, প্রথমত যেসব শিশুর মৃত্যু হচ্ছে, সেগুলির বেশিরভাগই লো বার্থ ওয়েটের অর্থাৎ কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও দাবি, শিশুমৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মালদহ মেডিকেলে জন্ম নেওয়া ১৮ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে। কিন্তু নার্সিংহোম থেকে রেফার হয়ে আসা শিশুদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি অবশ্য সাফ জানিয়ে দেন, মালদহ মেডিকেলে অস্বাভাবিক হারে শিশুমৃত্যুর ঘটনা রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসন মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না। ফলে যেভাবেই হোক, শিশুমৃত্যুর হার কমাতে হবে। শিশু বিভাগে সবসময় পর্যাপ্ত চিকিৎসকের বন্দোবস্ত করতে হবে। সেইসঙ্গে মালদহ মেডিকেলে ওয়ার্ডে রোগীর শৌচালয়ের কেন নরক অবস্থা, এদিনের বৈঠকে তা নিয়ে রীতিমতো কৈফিয়ত তলব করেন বিধায়ক। প্রসঙ্গত, দু’দিন আগে সেবা সংকল্প কর্মসূচিতে মালদহ মেডিকেলে গিয়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টারের শৌচালয়ের হাল দেখে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, রোগী কল্যাণ সমিতির এদিনের বৈঠকে ইংলিশবাজারের বিধায়ক সাফ জানিয়ে দেন, কার, কী দায়িত্ব তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। কিন্তু হাসপাতালে ওয়ার্ডে নোংরা পড়ে থাকবে কিংবা শৌচালয় ব্যবহারের মতো পরিস্থিতি থাকবে না, এটা চলবে না। হাসপাতাল সাফসুতরো রাখা যাঁদের দায়িত্ব, তাঁদের দিয়ে কাজ করাতে হবে। এবং সেই কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তার উপর নজরদারি চালাতে হবে। এর পর যদি মালদহ মেডিকেলে ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিকেল তিনটে থেকে এদিন তিন ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক হয় মালদহ মেডিকেলে। অধ্যক্ষ, এমএসভিপি সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল সূত্রের খবর, বিধায়কের উপস্থিতিতে এদিনের বৈঠকে মূলত পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা পরিষেবা বিশেষ করে শিশুমৃত্যু ঠেকানো এবং ব্লাড ব্যাংকের লাইসেন্স রিনিউনাল করা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে এমএসভিপি গণেশচন্দ্র গায়েন বলেন, চলতি মাসে ২৪ দিনে ৫৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত মাসের তুলনায় শিশুমৃত্যু অনেকটাই কমেছে। তবে আমরা চাইছি, এটা আরও কমাতে। তাঁর দাবি, এদিনের বৈঠকে শিশুমৃত্যু ছাড়া পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিশেষভাবে কথা হয়েছে। বিধায়ক বলেছেন, যাঁকে দিয়ে যে কাজ করানোর, তা করাতে হবে। সমস্ত কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতে হবে। আমরা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের শৌচালয় পরিষ্কার করার শুরু করে দিয়েছি। ব্লাড ব্যাংকের রিনিউয়াল নিয়ে এমএসভিপির দাবি, রাজ্যের কাছ থেকে আমরা অনুমোদন পেয়ে গিয়েছি। এবার কেন্দ্রের ছাড়পত্র পেলে আর কোনো জটিলতা থাকবে না।



