সুকান্ত বসু, কলকাতা: ঘটনাটি ১০০ বছর আগের। পাথরের মূর্তিরূপে দুর্গা নিজে চেয়েছিলেন মন্দিরে পুজো হোক তাঁর। সে স্বপ্নাদেশ পেলেন দীনবন্ধু পান্ডা। তারপর কুমোরটুলিতে গিয়ে বরাত দিলেন ৫০০ কেজি ওজনের পাথরের দুর্গামূর্তির। সেই মূর্তিরই পুজো হয় বাগবাজারে পান্ডা পরিবারের মন্দিরে।পাথরের এই মূর্তি চাকা লোহার একটি ট্রলির উপর বসানো। প্রতিবছর শিল্পীরা এসে রং করে যান। এখন মন্দিরে গেলে দেখা যাবে পুজোর আয়োজন চলছে। দীনবন্ধুবাবু অনেকদিন আগে মারা গিয়েছেন। এখন তাঁর বংশধররা পুজো করছেন। সেবায়ত বিশ্বনাথ পান্ডা জানান, এই মন্দিরে দুর্গা আরাধনার পাশাপাশি মা বগলাদেবী সহ ন’জন দেবীর আরাধনা করা হয়। নবরাত্রি থেকে শুরু হয় পুজোর আয়োজন। পুজোয় মায়ের চরণে নিবেদন করা হয় পদ্মের বদলে ১০৮ অপরাজিতা ফুল। এছাড়া সন্ধিপুজোর সময় শুধুমাত্র চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। এই নিয়মের কোনো হেরফের ঘটে না। পুজোয় নানা ধরনের ভোগ নিবেদন হলেও প্রধান প্রসাদ মালপোয়া। যা প্রতিদিনই থাকে। এছাড়াও দেবীকে ফল, নানা ধরনের নাড়ু, মিষ্টি, লুচি, পাঁচরকম ভাজা, আলুর দম, পোলাও প্রভৃতি নিবেদন করার নিয়ম। অষ্টমীতে মন্দিরে আসা মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। এখানে মূর্তি পাথরের, তাই নিরঞ্জন হয় না। দশমীতে শুধুমাত্র দেবীর ঘট নিরঞ্জন করা হয় বাগবাজার ঘাটে। পাথরের এই মূর্তির বৈশিষ্ট্য হল, একচালার ঢঙে দুর্গার সঙ্গে অন্যান দেবদেবী যথাযথ। প্রতিটি মূর্তি আলাদা আলাদা করে খোলার ব্যবস্থা আছে। পুজো সমাপনের পর প্রতিটি মূর্তি আলাদা করে খুলে রাখা হয়। সেবায়ত জানান, মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত মা বগলাদেবী মায়েরই একটি প্রতিরূপ। তাই এখানে পুজোর দিনগুলি বগলাদেবীর পুজো নিষ্ঠা সহকারে হয়। এই দেবী সুন্দরের প্রতীক। তাই মাকে ঝলমলে পোশাক পরানোর পাশাপাশি সাজানো হয় ফুলের গয়নায়। সুগন্ধি দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে বাগবাজারে পান্ডাদের এই দুর্গাপুজো দেখতে বহু দূর থেকে মানুষ আসে। -নিজস্ব চিত্র



