অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকটের অভিযোগ উঠছিল। কালীগঞ্জ, করিমপুর, চাপড়া-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পর্যাপ্ত পড়ুয়া থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছিল পঠনপাঠন। আবার জেলার শহর ও মফঃস্বল এলাকায় কোনো কোনো স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক—বিভিন্ন স্তরেই এমন বৈপরীত্যের ছবি দেখা গিয়েছে। এবার সেই নদীয়াতেই পড়ুয়াশূন্য ৪০টি স্কুলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠল। ওই স্কুলগুলির বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতে শুরু হয়েছে ফিল্ড ভেরিফিকেশনের কাজ।
জেলা শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চিহ্নিত ৪০টি স্কুলের মধ্যে ১৫টি প্রাথমিক এবং ২৫টি মাধ্যমিকস্তরের। অর্থাৎ, প্রাথমিকের তুলনায় মাধ্যমিকস্তরে পড়ুয়াশূন্য স্কুলের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখছে শিক্ষাদপ্তর। ফিল্ড ভেরিফিকেশনের সময় মূলত পোর্টালে নথিভুক্ত পড়ুয়ার সংখ্যা এবং স্কুলের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে কোনো ফারাক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। পোর্টালে যত সংখ্যক পড়ুয়া দেখানো হয়েছে, বাস্তবে স্কুলে আদৌ সেই সংখ্যক পড়ুয়া রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলের পরিকাঠামো, ভবনের অবস্থা, জমির পরিমাণ এবং অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু পড়ুয়ার সংখ্যাই নয়, পড়ুয়াশূন্য স্কুলে এখনও কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন কি না, থাকলে তাঁরা কীভাবে সেখানে কর্মরত রয়েছেন—সেই বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, কম পড়ুয়া থাকা স্কুলগুলিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক রয়েছেন কি না। ইতিমধ্যেই কম পড়ুয়া থাকা স্কুল থেকে শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর। জেলা শিক্ষাদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘প্রাথমিক স্কুলের তুলনায় পড়ুয়াশূন্য মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা বেশি। বিষয়টি কিছুটা অস্বাভাবিক। তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, ভেরিফিকেশনের সময় বিদ্যালয় ভবনগুলির মাপজোখও করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির ভবন ও জমি কীভাবে সরকারি কাজে ব্যবহার করা যায়, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজেপির শিক্ষক সেলের মিডিয়া কনভেনার অমিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির মধ্যে অনেক স্কুল তৃণমূল আমলেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে এনজিও পরিচালিত স্কুলও রয়েছে। এই ধরনের বিদ্যালয়ের ভবন ভবিষ্যতে সরকারি কাজে ব্যবহার করার লক্ষ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
অন্যদিকে, এবিটিএ’র নদীয়া জেলা সম্পাদক সৌমেন পাল বলেন, ‘পড়ুয়া শূন্যতার অন্যতম কারণ শিক্ষক সমস্যা। প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের ওই স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। রাজ্যে পড়ুয়াশূন্য ৯৩৩টি স্কুলের অধিকাংশেরই ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। স্কুলভবন ও জমি বিকল্প জনপরিষেবামূলক কাজে ব্যবহারের জন্য আগেই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন কাজে এই পরিকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তবে, পড়ুয়াশূন্য স্কুলের সংখ্যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধন্দ। ইউডাইস প্লাসের রিপোর্টে রাজ্যে এমন স্কুলের সংখ্যা ৪,১৩৩টি বলে উল্লেখ রয়েছে। মন্ত্রীও আগে একই তথ্য জানিয়েছিলেন। ফলে নতুন করে ৯৩৩টি স্কুলের সংখ্যা কীভাবে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।