


সংবাদদাতা, কাঁথি: শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবসর নেওয়ার পর নতুন করে নিয়োগ হয়নি। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে কাঁথি-৩ ব্লকের দুরমুঠ পঞ্চায়েতে চারটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র এবং একটি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ করে দিল প্রশাসন। সেখানকার গামাডুলি, দইসাই দক্ষিণ, বরুণাবেড়িয়া ও ভুতগেড়িয়া শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুরমুঠ মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রও বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, ১০জনের কম পড়ুয়া হলে ওই শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার বেশি পড়ুয়া থাকলে অন্য শিশুশিক্ষা কেন্দ্র থেকে সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিযুক্ত করা হয়। তবে গামাডুলি, বরুণাবেড়িয়া ও ভুতগেড়িয়া-এই তিনটি শিশুশিক্ষা কেন্দ্রেই শিক্ষিকারা অবসর নিয়েছেন। সেগুলি বন্ধ করে পড়ুয়াদের আশপাশের স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকার সিপিএম নেতা ঝাড়েশ্বর বেরা বলেন, যে সমস্ত এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই, বাম আমলে সেখানে শিশুশিক্ষা কেন্দ্র তৈরি হয়েছিল। সরকারের এসমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর সদিচ্ছা নেই। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ চেষ্টা করলে সেগুলি চালানো যেত। এসব কারণেই ছেলেমেয়েদের বেসরকারি স্কুলে পাঠানোর ঝোঁক বাড়ছে। কিছুদিন পর ওই সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে মদ-জুয়ার আসর বসবে।
ওয়েস্ট বেঙ্গল এমএসকে অ্যান্ড এসএসকে টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি বিকাশচন্দ্র বারিক বলেন, বহুদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ। ছেলেমেয়েরা আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয় কিংবা নার্সারি স্কুলে পড়তে চলে যাচ্ছে। আমরা এনিয়ে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। বহুবার ডেপুটেশন দিয়েছি। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে সমস্যার সমাধান হবে।
বিডিও দীপক ঘোষ বলেন, একে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে। তার উপর শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকায় ওই এমএসকেটি ও এসএসকেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।