


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিযোগ ওঠে, চিকিৎসকদের সঙ্গে সমাজের অন্যান্য শ্রেণির এখন আর আগের মতো সুসম্পর্ক নেই। নিজেদের ছোট পরিসরে আবদ্ধ করে ফেলেছেন চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ। দুশ্চিন্তার এই ট্রেন্ডের একেবারে উল্টো পথে হাঁটলেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের এক ঝাঁক তরুণ চিকিৎসক। বউবাজারের একটি প্রাচীন অনাথ আশ্রমের ৩০০ শিশুর স্বাস্থ্যের দায়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই কর্মসূচির নাম রেখেছেন, ‘প্রজেক্ট নৈবেদ্য’। সরস্বতী পুজোর দিন আশ্রমের ১০০ শিশু কলকাতা মেডিকেল কলেজের অডিটোরিয়ামে ডাক্তারদের পুজোয় অংশ নেয়। তাদের দেওয়া হয় স্কুল ব্যাগ, স্বামী বিবেকানন্দের বই, খাতা, পেন-পেন্সিলের সেট।
নৈবেদ্যের উদ্যোক্তা ৩৬ জন তরুণ চিকিৎসক। তাঁদের অধিকাংশই মেডিকেল কলেজের ছাত্র। বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের দায়ভার মানে? কো-অর্ডিনেটর ডাঃ পৃথ্বীশ সরকার বলেন, ‘ওদের যে কোনো ধরনের শরীর খারাপ হলে চিকিৎসার খরচ আমাদের। ভর্তি করার প্রয়োজন পড়লে মেডিকেল কলেজে দ্রুত ভর্তিরও ব্যবস্থা করব। তরুণ চিকিৎসকদের একাংশ জানান, মেডিকেল কলেজগুলির ফেস্টের বাজেট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। কলেজগুলি যদি সেই বাজেট থেকে অল্প কিছু টাকাও সামাজিক কাজে খরচ করে ভালো। নৈবেদ্যের কাজে অর্থ সংকট একটি প্রধান সমস্যা বলে জানালেন উদ্যোগী চিকিৎসকদের একাংশ। আক্ষেপের সুরে তাঁরা বলেন, ‘ভালো কাজে পাশে দাঁড়ানোর মতো লোক পাওয়া যায় না। ওষুধ সংস্থার প্রতিনিধিদের খুব একটা পাশে পাইনি। কিছু অর্থবান চিকিৎসক টাকা দিতে হবে ভেবে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু আমরা দমব না। এই কাজ বছরভর চালিয়ে যাব।’