


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা পাওয়ার পরেও বাঁকুড়ার ৩০ শতাংশ উপভোক্তা কাজই শুরু করেননি। জেলায় এবার প্রায় এক লক্ষ পরিবার বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছে। ফলে মোটের উপর ৩০ হাজার উপভোক্তা এখনও বাড়ির ভিত তৈরির জন্য মাটি কাটেননি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি তৈরির প্রথম দফার কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। ৩০ শতাংশ উপভোক্তা কাজ শুরু না করায় আধিকারিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, বাংলার বাড়ির প্রথম পর্যায়ে টাকা পাওয়ার পরও বহু উপভোক্তা কাজ শুরু করেননি। তাঁদের কাজে নামাতে প্রশাসনের কালঘাম ছুটে যায়। বারবার বলা সত্ত্বেও কাজ না হওয়ায় কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়। কয়েকজন উপভোক্তা আবার বাঁকুড়া ছেড়ে পাকাপাকিভাবে অন্য জেলায় চলে গিয়েছিলেন। তাঁদেরও টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। ওই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতে এবার প্রশাসন আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলায় ৩০ শতাংশ উপভোক্তা বাংলার বাড়ির কাজ শুরু করেননি। ভোট ঘোষণা শুধু সময়ের অপেক্ষা। এমনিতেই এসআইআর নিয়ে বিডিওরা ব্যস্ত থাকায় প্রকল্পে সেভাবে নজর দিতে পারেননি। ভোট ঘোষণা হলে আগামী দু’মাস তাঁরা চূড়ান্ত ব্যস্ত থাকবেন। ফলে বর্ষার আগে প্রথম কিস্তিতে পাওয়া টাকা খরচের আশা কম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার বাড়ির দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলায় মোট এক লক্ষ গৃহ নির্মাণ হবে। মাসখানেক আগে প্রকল্পের সূচনার দিনেই ৯৫ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তি বাবদ ৬০ হাজার টাকা জমা পড়েছে। রাজ্য সরকার ওই প্রকল্পে উপভোক্তাদের মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিচ্ছে। তবে তা দু’টি কিস্তিতে ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর উপভোক্তাকে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে হয়। নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত বাড়ির দেওয়ালের গাঁথনি তোলার পর দ্বিতীয় তথা শেষ কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। বছর দেড়েক আগে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের টাকা উপভোক্তারা পেয়েছিলেন। কিন্তু, ওই পর্যায়ে অর্থ খরচের ব্যাপারে প্রশাসনের আধিকারিকদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তারজন্য রাজ্যস্তরে কৈফিয়ত দিতে হয়েছিল। গতবছর ভোট ছিল না। তা সত্ত্বেও আধিকারিকদের কাজ গুটিয়ে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। ফলে ওই ঘটনা থেকে শিক্ষা পেয়ে এবার ভোটের আগে অন্তত সব উপভোক্তা যাতে কাজ শুরু করে দেন, তা আধিকারিকরা নিশ্চিত করতে চাইছেন। কিন্তু, বাস্তবে তা হচ্ছে না।
কী কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না? এক আধিকারিক বলেন, বালি সহ অন্যান্য উপকরণের দাম বর্তমানে আকাশছোঁয়া। ফলে অনেকেই দাম কমার আশায় কিছুটা অপেক্ষা করছেন। ফলে পঞ্চায়েত থেকে উপভোক্তাদের তাগাদা দেওয়া হলেও করছি, করব বলে তাঁরা সময় অতিবাহিত করছেন। তাছাড়া এসআইআর নিয়ে বিডিও সহ ব্লক প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা ব্যস্ত ছিলেন। তাঁরা সেভাবে পঞ্চায়েত স্তরে নজরদারি চালানোর সময় পাননি। আগে নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিডিওরা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করতেন। গত কয়েকমাসে বহু ব্লকে ওই ধরনের বৈঠক হয়নি। সেই কারণে সমস্যা হচ্ছে। তবে তা দ্রুত মিটে যাবে বলে আমরা আশা করছি।