


ইম্ফল: নিখোঁজ? না কি মৃত? এই প্রশ্ন নিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মণিপুরের মায়েরা। স্বামীহারা স্ত্রীরা। মণিপুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরুর পর তিন বছর অতিক্রান্ত। এখনও সুবিচার পাননি বহু নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার। শনিবার সেই পরিবারগুলির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তিন বছর ধরে অসহ্য নীরবতা, অনিশ্চয়তা বয়ে বেড়াচ্ছি। সেই অসহনীয় অবস্থা যেন কিছুতেই মিটছে না।’ আর এতকিছুর জেরে তাঁরা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী, সাত বছর কোনো নিখোঁজের সন্ধান না মিললে, তবেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরই শংসাপত্র পাওয়া যায়। সেই শংসাপত্র কাজে লাগিয়ে মেলে মৃতের পরিবারের জন্য বরাদ্দ প্রকল্পের সুবিধা।
২০২৩ সালের ৩ মে গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরুর পর থেকেই নিখোঁজ কবিতা দেবীর স্বামী। শনিবার তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী সরকারি কর্মী ছিলেন। ঘটনার পর থেকে জানি না তিনি কোথায় আছেন? সরকারের পক্ষ থেকে চাকুরি এবং সহায়তা প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কিছুই মিলছে না।’ তাঁর কথায়, ‘সর্বত্র মৃতের শংসাপত্র চাওয়া হচ্ছে। আর প্রশাসন সাত বছর অপেক্ষা করতে বলছে।’ রঞ্জিতা দেবীর অবস্থাও একই রকম। স্বামী কোথায় জানেন না এই প্রৌঢ়া। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নিখোঁজ। জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি না। সন্তানদের খাওয়া-পরার খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছি। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের প্রিয়জনকে খুঁজে এনে আমাদের সুবিচার দিন।’
এই অবস্থায় মেইতেই অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মণিপুরে বিজেপি সরকার কুকিদের স্বার্থের বিনিময়ে মেইতেইদের রক্ষা করে চলেছে বলে প্রচার শুরু হয়েছে। এতে মেইতেই গোষ্ঠীকে সকলের সামনে খলনায়ক বানানো হয়। মেইতেইরাও গোষ্ঠী সংঘর্ষে একই রকম ভুক্তোভোগী বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।