


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বজবজ ও ইসলামপুর: মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে নাবালক শ্রমিককে যে মারধর করা হয়েছিল, জেরায় তা মানছে কারখানার মালিক তথা মূল অভিযুক্ত শাহেনশাহ। তবে কোথায় ওই কিশোর রয়েছে, তাই নিয়ে সে বিভ্রান্ত করে চলেছে তদন্তকারীদের। রবিবারই শাহেনশাহ, তার ভাই ও নাবালক ভাগ্নেকে মুম্বই থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। দুপুরে তাদের আলিপুর পুলিস আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনজনকেই পুলিস হেফাজতে পাঠান। এদিকে দশ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কিশোরের খোঁজ না মেলায় এদিন মাটিকুণ্ডায় ইসলামপুর পাটাগোরা রোডে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ-বিক্ষোভে শামিল হন স্থানীয়রা। ইসলামপুর থানার আইসি হীরক বিশ্বাসের হস্তক্ষেপে অবরোধ তোলেন স্থানীয়রা।
নাবালক নিখোঁজের ঘটনার তদন্তে নেমে এবার হেফাজতে থাকা পাঁচ অভিযুক্তকে মুখোমুখি বসাতে চান তদন্তকারীরা। তাদের বয়ানে অসঙ্গতি ধরেই তদন্তে এগতে চাইছেন তাঁরা। শাহেনশাহ এখনও দাবি করে আসছে, কিশোর কোথায় গিয়েছে জানা নেই। যদিও তার কারখানার ধৃত দুই কর্মী পুলিসকে জানিয়েছে, নাবালককে গুম করেছে তার মালিক শাহেনশাহ। কিন্তু কোথায় করেছে, তারা তা জানে না। কারখানায় থাকার সময় তারা আলোচনা শুনেছিল, কিশোরকে হাপিস করে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে খালে ফেলার কথাও ভাবা হয়েছিল। এই নিয়ে শাহেনশাহ তার ভাই ও নাবালক ভাগ্নের সঙ্গে কথা বলছিল। কিন্তু তাদের কারখানা ছাড়তে বলায় চলে গিয়েছিল। তাই পরের ঘটনা জানা নেই। সেই কারণে পাঁচজনের জেরায় কে কী বলছে, জানা দরকার অফিসারদের। রবিবার আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী বলেন, কিশোরকে খুঁজে বের করতে শাহেনশাহ সহ তিনজনকে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন।
এইদিন বিকেলে চোপড়ার তৃণমূলের বিধায়ক হামিদুল রহমান নির্যাতনের শিকার হওয়া নাবালক শ্রমিকের বাড়ি গিয়ে পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন। বিধায়ক বলেন, পেটের দায়ে কাজ করতে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমার মনে হচ্ছে দোষীরা শিশুকে মেরে ফেলে দিয়েছে। বেঁচে থাকলে এতদিন নিশ্চয় উদ্ধার হতো। এই মামলায় দোষীরা রেহাই পাবে না। পুলিস জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। নাবালকের বাবা দোষীদের ফাঁসির সাজা চাইছেন। তিনি বলেন, ভিডিওতে দেখেছি নির্মমভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতন করা হয়েছে। এখনও ছেলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। দোষীদের ফাঁসি চাই। শিশুর কাকা অভিযোগ করেন, পলাতক অবস্থায় শাহেনশাহর ভাই ফিরোজ তাদের ফোন করে মিটমাটের প্রস্তাব দিয়েছিল। ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাচ্ছে পুলিস। - নিজস্ব চিত্র।