সংবাদদাতা, ডোমকল: মাস চারেক আগে হয়েছিল বিয়ে। বুধবার স্ত্রীর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ছিল। তাই মঙ্গলবার রাতে তাকে নিয়ে স্কুটি করে শ্বশুরবাড়িতে রাখতে যাচ্ছিলেন স্বামী। শ্বশুরবাড়ির কয়েকশো মিটার আগেই স্পোর্টস বাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হল দম্পতির। মৃত্যু হয়েছে অপর বাইকে থাকা এক নাবালকেরও। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক আরোহী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জলঙ্গির পাকুড়দিয়াড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃতরা হলেন জলঙ্গির ফরিদপুরের মেহেবুব আলম(২৮), তাঁর স্ত্রী তামান্না খাতুন এবং পাকুড়দিয়াড়ের সাইদ শেখ (১৭)। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস চারেক আগে ফরিদপুরের মেহবুব আলমের সঙ্গে পাকুড়দিয়াড়ের তামান্নার বিয়ে হয়েছিল। তামান্না উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বুধবার তার তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা ছিল। তাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্ত্রীকে বাপেরবাড়িতে রাখতে স্কুটি করে পাকুড়দিয়াড়ে যাচ্ছিলেন মেহেবুব। শ্বশুরবাড়ির কয়েকশো মিটার আগে রাজ্য সড়ক থেকে গ্রামের রাস্তায় ঢোকার সময় উলটো দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা স্পোর্টস বাইকের সঙ্গে তাঁদের স্কুটির সংঘর্ষ হয়। ছিটকে পড়ে দুই গাড়ির চারজন জখম হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সকলকেই মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেহেবুব, তামান্না ও সাইদের মৃত্যু হয়। জখম নুরাবুল বিশ্বাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মেহেবুবের এক ভাই আব্বাস আলি বলেন, চার মাস আগেই দাদার বিয়ে হয়েছিল। বউদি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। বাপেরবাড়ি থেকেই পরীক্ষা দেবে বলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দাদা তাকে রাখতে যাচ্ছিল। শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার আগে মেন রাস্তা থেকে গ্রামের রাস্তায় ঢোকার সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
তামান্নার শাশুড়ি ঝরনা বিবি বলেন, ছেলে বউমাকে রাখতে যাচ্ছিল। প্রথমে টোটোতে যাওয়ার কথা হলেও পরে স্কুটিতে করে যাচ্ছিল। আমার জোড়ামানিক একসঙ্গে শেষ হয়ে গেল।
স্থানীয় যুবক ফরিদ মণ্ডল বলেন, আমরা নামাজ পড়ে ফিরছিলাম। তখন দুর্ঘটনার শব্দ শুনতে পাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, আমাদের পাড়ার মেয়ে, জামাই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পাশে আরও দু’জনও পড়ে রয়েছে। সবাই মিলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঝড়ের গতিতে স্পোর্টস বাইকটি এসে ওই স্কুটিতে ধাক্কা মেরেছে।
সাইদের সম্পর্কের দিদা সাহানারা বিবি বলেন, আমার নাতি নাবালক। একটাই ছেলে। তেমন কিছু কাজকর্ম করত না। বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়েছিল। এভাবে ওকে হারাতে হবে ভাবতেই পারছি না। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্কুটি ও বাইকটি বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।