ন’মাসে ২৭টি প্রাণীর মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে পার্ক কর্তৃপক্ষ
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: গত ন’মাসে বেঙ্গল সাফারিতে ২৭টি প্রাণীর মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নের মুখে পার্ক কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে গত তিন মাসে সাতটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।  শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে এই সাফারি পার্ক পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এখানকার টিকিট বিক্রি থেকে রাজ্য সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। অথচ সেই পার্কেই একের পর এক প্রাণীর মৃত্যুতে পরিচালন ব্যবস্থা, চিকিৎসা পরিষেবা ও বন্যপ্রাণীর পরিচর্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। 

Advertisement

মৃত্যুর ঘটনাগুলির সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত করা হয়ে থাকলে তার রিপোর্ট কী বলছে, কোনো প্রাণীর মৃত্যু অসুস্থতা, সংক্রমণ নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না— এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইছেন পশুপ্রেমীরা। পাশাপাশি প্রাণীদের খাদ্যতালিকা, আবাসস্থলের পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। 
মৃত্যুর তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। গত ১৬ জুলাই একটি স্ত্রী কৃষ্ণসার হরিণের মৃত্যু হয়। ১৮ জুলাই মারা যায় একটি পুরুষ সিংহ ও একটি স্ত্রী চশমা বাঁদর। ২২ জুলাই মৃত্যু হয় একটি পুরুষ বন্য কুকুরের। ২৭ জুলাই মারা যায় একটি পুরুষ আর্গাস ফিজ্যান্ট। ৬ আগস্ট প্রাণ হারায় একটি পুরুষ হিমালয়ান শকুন। ১৫ অগস্ট মৃত্যু হয় অত্যন্ত বিরল স্যাঙ্গাই হরিণের একটি স্ত্রী সদস্যের। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মৃত্যুতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। 
পার্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছ’মাসেই পার্কে ২০টি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছিল। এরপর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও সাতটি প্রাণীর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। 
সলিটারি নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশনের সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরী ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনা পার্কের প্রাণীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা, নজরদারি ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। প্রথম ছ’মাসে এতগুলি প্রাণীর মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। 
এ বিষয়ে পার্কের ডিরেক্টর ই বিজয় কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একের পর এক প্রাণী মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। ফলে মৃত্যুর কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।